পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৯ জুলাই: বিরোধীরা নয়, তৃণমূলের বিরুদ্ধে এবারে ময়দানে নামলেন তৃণমূল। রাজ্য রাজনীতির সমস্ত সমীকরণ উলটে ফেলে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে অনাস্থা ভোটে হারালো খোদ তৃণমূল। দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত লাগোয়া হিলি ব্লকের ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এমন ঘটনায় রীতিমতো আলোড়ন পড়েছে গোটা জেলাজুড়ে। বিজেপির টিকিটে জিতে তৃণমূলের সমর্থনে প্রধান হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী শেফালি বর্মন। পরে ঘাসফুল শিবিরে নিজের নাম লেখালেও, সেই প্রধানকে সরাতেই আস্থা ভোটে একজোট হল তৃণমূল ও বিজেপি। শুক্রবার যে ভোটপর্বকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা ছিল হিলির ত্রিমোহিনী এলাকায়। নামানো হয়েছিল প্রচুর পুলিশ বাহিনীও। ১৪ জুলাই নতুন করে ওই পঞ্চায়েতের প্রধান কে নির্বাচিত হবে যাকে ঘিরেও রীতিমতো গুঞ্জন ছড়িয়েছে এলাকায়। যদিও এ বিষয় নিয়ে দলের তরফে তেমনভাবে কেউই মুখ খুলতে চাননি।

তৃণমূলের তরফে বিদ্যুৎ বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রধানের বিরুদ্ধে বিজেপি অনাস্থা ডেকেছিল। এদিন ভোট দিয়েছেন সকলে।
জানাগিয়েছে, হিলি ব্লকের অন্তর্গত ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন সংখ্যা ১৪টি। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ৬টি আসন পেলেও, ১টি নির্দল এবং বাকি ৭টি আসন বিজেপির দখলে যায়। নির্দল প্রার্থী মোসলেম মন্ডল সহ বিজেপির মহিলা প্রার্থী শেফালী বর্মণকে তৃণমূলে নিয়ে বিজেপিকে বোর্ড গড়তে আটকে দেয় ঘাসফুল শিবির। বিজেপির হাতে থাকা বাকি ৬ সদস্যের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়। অবশিষ্ট ৫ সদস্যকে নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের ঔদ্ধত্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে অনাস্থা ভোটের ডাক দেয় বিজেপি। যার ভোট পর্বই ছিল এদিন। শুক্রবার সকালে সেই ভোটের আগেই বিজেপির দুই পঞ্চায়েত সদস্য পার্থ রায় ও মৃণাল সরকারকে তৃণমূল তাদের দলে টেনে নেন। তুলে দেওয়া হয় দলীয় পতাকাও। হিসাব অনুযায়ী প্রধান শেফালী বর্মনের ভোটে জেতার কথা থাকলেও তৃণমূলের কোনও সদস্যই তাকে ভোট দেননি। আর যার কারণেই হার স্বীকার করতে হয় মহিলা প্রধানকে। ১৪ আসন বিশিষ্ট ওই পঞ্চায়েতে ১২ জন সদস্যই এদিন হাত তুলে ওই প্রধানের বিরুদ্ধে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন বলে পঞ্চায়েত সুত্রের খবর। আর যার ফলে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে।

যদিও হিলির বিজেপি নেতা জয়ন্ত প্রামাণিকের দাবি, ক্ষমতা ও ভয় দেখিয়ে তাদের সদস্যদের দলে টানছে তৃণমূল। যার বিরুদ্ধে আগামীতে তারা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

