আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৭ মার্চ: ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সেলিব্রিটি তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী বহিরাগত। এই কারণে তাঁকে নিয়ে ব্যারাকপুরের তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেধেছিল। ব্যারাকপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব চেয়েছিল স্থানীয় প্রার্থী ব্যারাকপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।
রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ব্যারাকপুরের ২ শীর্ষ তৃণমূল নেতা। ব্যারাকপুরের পৌরপ্রশাসক উত্তম দাস এবং লালন পাসোয়ান জানিয়েছিলেন, স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী দেওয়া উচিত ছিল। প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এসেছিল ব্যারাকপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক উত্তম দাসের। কিন্তু দল ব্যারাকপুরে সেলিব্রিটি টলিউড সিনেমার ডাইরেক্টর রাজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী ঘোষণা করে দেয়। এর আগে ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন শীলভদ্র দত্ত। তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে ব্যারাকপুর পৌরসভা এলাকায় তৃণমূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন উত্তম দাস। ব্যারাকপুরের স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা ভেবেছিলেন উত্তম দাসকে দল প্রার্থী করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। রাজ চক্রবর্তী প্রার্থী হওয়ার পর উত্তম দাস তার প্রতিক্রিয়ায় বলে ছিলেন, “আমি রাজ চক্রবর্তীকে চিনি না, চুন খেয়ে মুখ পুড়েছে, দই দেখলেও ভয় লাগে।” উত্তম দাসের প্রার্থী নিয়ে অপছন্দের বিষয়টি তৃণমূলের অন্দরে চাপা থাকেনি। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার দু দিনের মাথায় রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে ব্যারাকপুরের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন ফিরহাদ হাকিম এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
রবিবার ব্যারাকপুর নোনাচন্দন পুকুর ক্লাবে রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে উত্তম দাস, লালন পাসোয়ানকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেখানে সেলিব্রিটি বহিরাগত প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও সেই মনোমালিন্য মিটিয়ে দেন ফিরহাদ ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
রাজ চক্রবর্তী বলেন, “ব্যারাকপুরের কর্মীরা উজ্জীবিত। কোনও ক্ষোভ নেই কর্মীদের মধ্যে। আগে যা ছিল সেটা অতীত। ব্যারাকপুরের আসন তৃণমূলকে জিতিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করব আমরা। দিদির গত ১০ বছরের উন্নয়নের ব্যাখ্যা দেব আমরা। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যাব। ব্যারাকপুরের মানুষ আমাকে ২৪ ঘণ্টা কাছে পাবে। আমাকে সেলিব্রিটি ভাবার কোনও কারন নেই। আমি আপনাদের পাশেই হালিশহরে বড় হয়েছি। নৈহাটি কলেজে পড়াশোনা করেছি।”

বৈঠকে উপস্থিত রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, “আমাদের দলে মনোমালিন্য, ঝগড়া হয়। আবার আমরা সবাইকে বুকে টেনে নিই। ভোট আসলে দলের মধ্যে একটু ঝগড়া, মনোমালিন্য না হলে কেমন যেন লাগে। আজকে ব্যারাকপুরের এবং নোয়াপাড়া নিয়ে কর্মীদের মধ্যে যে ক্ষোভ ছিল তা মিটে গেছে। নোয়াপাড়ার প্রার্থী মঞ্জু বসুর সঙ্গে ওই এলাকার দুই পৌর প্রশাসক সঞ্জয় সিং ও মলয় ঘোষের বৈঠকে তাদের সমস্যা মিটে গেছে। বনগাঁ উত্তরের সমস্যাও মিটে গেছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য বিজেপিকে হারানো। আর আজকের ব্রিগেডকে আমি বলব বাম কংগ্রেসের থেকেও খারাপ। ওদের যা লোক হয়েছিল তার ২৫% লোক বিজেপির ব্রিগেডে হয়নি। মিঠুন কোন প্রভাব ফেলবে না। বাংলার একমাত্র জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ও তুলনা করবেন না।”
ফিরহাদ হাকিম বলেন, “বিজেপিকে হারানোই একমাত্র লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে আমরা সফল হব। মিঠুন চক্রবর্তী কখন কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে থাকে বোঝা মুশকিল। এর আগে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তার আগে সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছিলেন। উনার কোনও দলের সঙ্গে থাকা বা না থাকা বাংলার ভোটে প্রভাব ফেলবে না। প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডের ভাষণ হতাশ করেছে। ব্রিগেডের কোনও প্রভাব ভোটে পড়বে না।”

