আমাদের ভারত, ১৪ জানুয়ারি: এরা সুযোগ পেলে চাঁদে গিয়েও চুরি করতে পারে, আলিপুর দুয়ারের একটি সভা থেকে এভাবেই তৃণমূলের নেতা কর্মীদের চুড়ান্ত কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, মা মাটি মানুষ আর তৃণমূলের ট্যাগলাইন নেই। স্বয়ং দিদিমণি এই ট্যাগলাইন বদল করে দিয়েছেন। তৃণমূলের এখন নতুন ট্যাগলাইন রণে বনে জলে জঙ্গলে যেখানে সুযোগ পাইবে সেখানেই চুরি করবে।
আলিপুরদুয়ারের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা নরেন্দ্র মোদী পাঠিয়েছেন ১১ লক্ষ ঘর তৈরি করার জন্য। আর তৃণমূলের ইঁদুররা লাফাচ্ছে সেই ঘরের টাকা খাবে বলে। তিনি বলেন, “ওদের বুদ্ধি নেই, উপর থেকে নরেন্দ্র মোদী সবটাই দেখছেন, সুযোগ পেলেই ওই ইঁদুরগুলোর লেজ কেটে দেবে। তখন কাটা লেজ নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে।” তাঁর কথায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বড় ইঁদুর ইতিমধ্যেই জেলে ঢুকেছে। তিনি কোটি কোটি টাকা চুরি করে বান্ধবীদের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কটাক্ষের সুরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “হিন্দি সিনেমার হিরো হৃত্বিক রোশন, অক্ষয় কুমার সিক্স প্যাক বানিয়েও এত বান্ধবী জোগাড় করতে পারেননি যত বান্ধবী জোগাড় করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।”
সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের উপর তলা থেকে নিচের তলা সকলেই চোর। তাই দিদি এখন নিজের দলের ট্যাগলাইন বদলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দিদিমণি নিজের দলের কর্মীদের জন্য নতুন ট্যাগ লাইন ঠিক করে দিয়ে বলেছেন, রণে বনে জলে জঙ্গলে যেখানে সুযোগ পাইবে সেখানেই চুরি করিবে।”
সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূলের নেতারা এমনকিছু নেই যে বিক্রি করেনি। নদীর বালি, পাথর, গরু, চাকরি। তাঁর কথায়, “এরা সুযোগ পেলে চাঁদের জমিও চুরি করে বিক্রি করে দিত। শুধু চাঁদে বা মঙ্গল গ্রহে এরা যেতে পারে না তাই। না হলেও সেখানকার সব কিছু এরা চুরি করে বিক্রি করে দিত।
সুকান্ত আরও বলেন, পঞ্চায়েত হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে চুরির আঁতুরঘর, চুরির ফ্যাক্টরি। কিভাবে চুরি করা যায় তা পঞ্চায়েতে গিয়ে শিখতে পারবেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের কাছ থেকে। বাড়ি থেকে শুরু করে শৌচাগার সমস্ত জায়গা কাটমানি খেতে খেতে এরা বড়লোক হয়ে গেছে।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করানোর অভিযোগে করেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি দাবি করেন, “সাত লক্ষ রোহিঙ্গা এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিয়ে অতিষ্ঠ আর সেই রোহিঙ্গাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে বসবাসের সুযোগ করে দিচ্ছেন। “তিনি বলেন, আপনার বাড়িতে দুটো বাচ্চা কিন্তু এই রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আট দশটা পনেরোটা বাচ্চা। সুকান্ত মজুমদার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাজ্যে এই ভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে আগামী দিনে রাজ্যবাসী সঙ্কটে পরবেন। তাদের ভিটে মাটি হারাতে হতে পারে।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূল সরকার পেট্রোল ডিজেলের উপর থেকে ট্যাক্স না কমালেও মদের উপর ট্যাক্স কমিয়েছে। আর লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা দেওয়া হচ্ছে এই মদের ভান্ডার সাপ্লাই করার জন্যেই।
রাজ্যের পুলিশকে তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের বন্ধু পুলিশ নিরপেক্ষ থাকুন। কিভাবে খেলতে হয় বিজেপি জানে। বিজেপি ঠিক খেলে নেবে।
একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়েছেন, চাপে পড়ে রাজ্য সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে লিখতে বাধ্য হয়েছে। সব জায়গায় এখন বাংলা সড়ক যোজনার বদলে প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা লেখা হচ্ছে। তার কথায়, “সবে বিড়াল গাছে উঠেছে। এরপর বিড়ালকে দিয়ে ডিসকো ড্যান্স করাব।”

