রামপুরহাটে তৃণমূল নেতাকে গুলি করে বোমা মেরে খুন, ৫ টি বাড়িতে আগুন

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২২ মার্চ : ফের খুন হলেন এক তৃণমূল নেতা। তাঁকে জনবহুল এলাকায় বোমা মেরে খুন করে দুষ্কৃতীরা। নিহত তৃণমূল নেতা বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান ছিলেন। নাম ভাদু শেখ (৩৮)।

জানাগেছে, সোমবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ রামপুরহাটে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বগটুই মোড়ে দাঁড়িয়ে ফোন করছিলেন তিনি। সে সময় দুটি মোটর বাইকে চার দুষ্কৃতী এসে তাকে লক্ষ্য করে পর পর কয়েকটি বোমা ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

জনবহুল এলাকায় বোমাবাজির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে লোকজন ছুটে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে উপ প্রধানকে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পরেই বগটুই গ্রাম জুড়ে শুরু হয় বোমাবাজি। উপ প্রধানের মৃত্যুর আক্রোশে বগটুই গ্রামের পাঁচটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় মোতায়েন করে বোমাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তৃণমূল নেতা খুনে দুষ্কৃতীদের ধরতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে দুটি সিসিটিভি রয়েছে। একটি রামপুরহাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান, তৃণমূল কাউন্সিলর অশ্বিনী তেওয়ারির বাড়িতে অন্যটি রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের। দুটি সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। ঘটনাস্থল ইঁট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

এই ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন তৃণমূলের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেন। তিনি বলেন, “আমাদের নেতা ভাদু শেখ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফোন করছিল। সে সময় দুষ্কৃতীরা বোমা মেরে খুন করেছে। আমরা পুলিশকে বলেছি দুষ্কৃতীদের খুঁজে বের করতে হবে। ভাদু উপ প্রধান হওয়ার পর এলাকায় শান্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতী শান্তি বিঘ্নিত করতেই এসব করছে। বছরখানেক আগে ওর দাদাকে খুন করা হয়েছে। এখনো সব অভিযুক্ত ধরা পড়েনি। আমরা পুলিশকে বলেছি এলাকায় শান্তি রাখতে হবে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ থাকতে পারে। সেটাও খুঁজে বের করা হবে।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, নিহত ভাদুর ছায়াসঙ্গী লালন শেখ বলেন, “দাদা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফোন করছিল। আমি ছিলাম কিছুটা দূরে। দেখলাম দুটো মোটরবাইকে চার জন এল। তারা বাইক থেকে নেমে দাদাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করল। এরপর বোমা মারে। আমি কাছে যেতেই আমাকে লক্ষ্য করে একটি বোমা ছোড়ে। আমি কোনোরকমে ছুটে পালিয়ে বাঁচি। ওদের কাউকে চিনতে পারিনি। তবে সকলেই কম বয়সের ছেলে। ওরা জাতীয় সড়ক ধরে নলহাটির দিকে পালিয়ে যায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *