স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত নদিয়া, ৩ মে: নদিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আজ এই মামলার মূল অভিযুক্ত ব্রজ গয়ালীর বাবা সমরেন্দ্র গয়ালী ও তার বন্ধু পীযূষ কান্তি ভক্তকে রানাঘাট মহকুমা আদালতে পেশ করে সিবিআই। কিন্তু মূল মামলা যে এডিজেএম বিশেষ পসকো কোর্টে উঠেছিল সেই কোর্ট আজ ছুটির জন্য বন্ধ ছিল। সেই কারণে মঙ্গলবার রানাঘাট আদালতের এসিজিএম কোর্টে তোলা হয় সমরেন্দ্র গয়ালী ও তার বন্ধু পীযূষ কান্তি ভক্তকে। বিচারক তাদের এক দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল আবার পেশ করা হবে এই দুই অভিযুক্তকে।
প্রসঙ্গত হাঁসখালি ধর্ষণ কাণ্ডে তথ্য ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে শুক্রবার রাতে সিবিআই মূল অভিযুক্ত ব্রজ গয়ালির বাবা তৃণমূল নেতা সমরেন্দু গয়ালি ও তার বন্ধু পীযূষ কান্তি ভক্ত সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে।
এর আগেও গত মঙ্গলবার সমরেন্দুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল সিবিআই। ওই দিনই ব্রজগোপালের মা কেও তলব করা হয়েছিল। সেইদিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয় সিবিআই। কিন্তু তিনদিন যেতে না যেতেই সমরেন্দুকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী সংস্থা।
সিবিআই সুত্রে খবর, “মঙ্গলবার ব্রজ ও তার বাবাকে একসাথে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা। এরপর আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের কথার মধ্যে অনেক অসংগতি দেখা যায়। এর পর সিবিআই হতাদের ছেড়ে দিলেও পরে সমরেন্দুকে গ্রেফতার করে। জানাগেছে, সিবিআই সমরেন্দুর কাছে জানতে চায়, জন্মদিনের পার্টি তাঁর বাড়িতে হয়েছিল কি না। ঐ নির্যাতিতাকে পরিবারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল না কি ব্রজ নিজে থেকেই আমন্ত্রন জানিয়েছিল? মেয়েটি যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন ভোর রাতে তাঁর বাড়িতে কেনো যাওয়া হয়েছিল? শ্মশানে দাহ করার সময় কারা কারা উপস্থিত ছিল এবং সেই রাতে ওখানে কোনও পুলিশের আধিকারিক ছিল কিনা?
প্রসঙ্গত, ঘটনার পরের দিন থেকে সমরেন্দু গা ঢাকা দেয়। প্রথমে তদন্তকারিরা তার খোঁজ করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। জানাগেছে, সে বগুলা গ্রামে গা ঢাকা দিয়ে ছিল। তদন্তকারিরা খোঁজ পাওয়ার পর তাঁকে প্রথমে গত মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তলব করে। সেইদিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিলেও, গত শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই।

