আমাদের ভারত, পূর্ব বর্ধমান, ২৬ আগস্ট:
সাংবাদিক এবং সংবাদ মাধ্যমকে অত্যন্ত অশালীন ভাষায় আক্রমণ করলেন পূর্ব বর্ধমানের এক তৃণমূল নেতা। ওই তৃণমূল তৃণমূল নেতার নাম তরুণ চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার দলের এক কর্মীর স্মরণ সভায় গিয়ে সাংবাদিকদের অত্যন্ত কটু ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত জীবনচর্চা নিয়েও কটুক্তি করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ২০০ টাকার মদ খেয়ে রাতে পড়ে থাকে। পূর্ব বর্ধমানের ১ নম্বর ব্লকের কুড়মুন ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল নেতা অচ্যুত সরকারের স্মরণ সভায় সাংবাদিক এবং সংবাদ মাধ্যমকে আক্রমণ করেন ওই তৃণমূল নেতা।
বৃহস্পতিবার কুড়মুন ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুড়মুন দিঘির পাড়ে তৃণমূল নেতা অচ্যুত সরকারের স্মরণ সভা হয়।
সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল নেতা তরুন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। তিনি বেশ কিছু জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমের নাম করে বলেন, এই সংবাদমাধ্যমগুলি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত উন্নয়ন করার পরেও বিক্রি হয়ে গিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে। সাংবাদিকতা করতে গেলে পাঁচ বছরের পড়াশোনা করে তবেই সাংবাদিক হওয়া যায়। আজকের সাংবাদিকরা রাতে ২০০ টাকার মদ গিলে পড়ে থাকে। ফুটপাতের চিংড়ি মাছ খাওয়ার থেকে বাজারের পচা ইলিশ মাছ খাওয়া অনেক ভালো, তাই এই সংবাদ মাধ্যমগুলিকে এড়িয়ে চলুন।

এই প্রসঙ্গে ১নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমেতির শিক্ষা কর্মাদক্ষ কৃষ্ণেন্দু গোস্বামী বলেন, গণতন্ত্রের অধিকারে সব থেকে বড় বিষয় স্বাধীনতা, তাই তিনি কারোর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চান না। তবে নিরপেক্ষ তথ্য তুলে ধরা উচিত বলে তার মনে হয়। এর আগেও বহুবার তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়কদের দেখা গেছে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কটুক্তি করতে। মহুয়া মৈত্রের পাশাপাশি অনেক তৃণমূল নেতাকেও দেখা গেছে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কুটুক্তি করতে। আজ আবার সেই সুরই শোনা গেলো পূর্ব বর্ধমানের আর এক তৃণমূল নেতার গলায়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতার বিরূপ মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান কাকলি তা গুপ্ত, বর্ধমান সদর এক ব্লকের কর্মাধ্যক্ষ কৃষ্ণেন্দু গোস্বামী, যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মানষ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা।

