কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩১ মার্চ: ঘাটাল সংগাঠনিক জেলার ডাকে চন্দ্রকোনা বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলুই- এর সমর্থনে চন্দ্রকোনার চড়কডাঙ্গা মাঠে বিশাল জনসভায় উপস্থিত হন মমতা ব্যানার্জি। চন্দ্রকোনার সভা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, আমি আজ সকালেই
সংবাদপত্রে ছবি দেখছিলাম, যাদের নাম বাদ গেছে তারা কিভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, চন্দ্রকোনার সভা থেকে এভাবেই মানুষের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমি দেখলাম মা বোনেরা দাঁড়িয়ে আছে, আদিবাসী ভাই বোনেরা দাঁড়িয়ে আছে, সংখ্যালঘু মা- ভাই- বোনেরাও লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। পশ্চিমবাংলার মানুষের নাম কেটে দিয়ে- বিহার, রাজস্থান ও অরুণাচল প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ থেকে লোক ঢোকাচ্ছে। ট্রেনে করে লোক এনে ভোট দিয়ে বাংলার মানুষকে বাদ দিয়ে বিজেপি জিততে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বলব আপনারা সবাই লক্ষ্য রাখুন, কোথায় কী বাদ যাচ্ছে, আমি তাদের সঙ্গে রয়েছি। এভাবে বাংলাকে বধ করতে চাইছে বিজেপি, তবে আমি থাকতে কোনদিন তা সম্ভব হবে না।
আমি চন্দ্রকোনার বিদ্যাসাগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করছি এই বাংলার মানুষকে এসআইআর- এর থেকে নাম বাদ দিতে দেব না। সৌদি আরবে গিয়ে এক থালায় বসে খেয়ে আসছে, আর বাংলায় থেকে তাদেরকে তাড়ানোর চক্রান্ত করছে দুমুখো মোদী। ২৯৪নং কেন্দ্রে আমি লড়াই করছি, আমি প্রার্থী, এই জোড়া ফুল তৃণমূল কংগ্রেসের চিহ্ন, আপনারা সবাই জোড়া ফুলে ভোট দিয়ে আমাদের প্রার্থীদের আশীর্বাদ করুন। পাশেই ঠাকুর মা সারদার জন্মভূমি আমি তাকে প্রণাম জানাই। এই জেলা এবং চন্দ্রকোনায় কয়েকশো কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে। চন্দ্রকোনা এলাকায় মানুষের আলু চাষ অনেক বেশি। এখানে অনেক আলু চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলুর দাম না থাকায়। আমি তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করব। আইসিডিএস, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে যে সমস্ত জায়গায় মিড ডে মিল হয়, তাদের জন্য আমি আলু কিনব। কয়েকটা বিজেপি নেতা এখানে চক্রান্ত করছে, আলু নিয়ে আমি তাদেরকে রাজনীতি করতে দেব না।
চন্দ্রকোনার জনসভার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেন, আদিবাসী ভাই- বোনেরা, মুসলিম ভাই বোনেরা এবং হিন্দু ভাই-বোনেরা আপনাদের উন্নয়নের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিন। মিথ্যাচার করছে বিজেপি, তাতে আপনারা কান দেবেন না। বাংলার বাইরের লোকেদের নিয়ে এসে নাম তুলছে বিজেপি। আপনাদের পরিবারের হরিজনদের, ভাই-বোনদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে আপনাদের আন্দোলনের জন্য তৈরি থাকতে হবে। নোট বন্দির লাইন, কেরোসিনের লাইন, আধারের লাইন, গ্যাসের লাইন, এসআইআর- এর লাইন আর কত লাইন দেওয়ানো হবে বাংলার মানুষকে? এবার বিজেপি তুমি নিজেই হবে বেলাইন।
তিনি বলেন, আমার কাজ হচ্ছে মানুষের সেবা করা। শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন কর্মই ধর্ম। ধর্ম হলো মানুষকে ভালোবাসার, সবাইকে একসাথে নিয়ে ও মেনে চলা, তাই মানব ধর্মকে রক্ষা করতে গেলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিতে হবে। যারা দেশকে স্বাধীন করেছে মাতঙ্গিনী থেকে ক্ষুদিরাম তারা বাংলার রত্ন, আর সেই জায়গার মানুষকে প্রমাণ করতে হচ্ছে তারা ভারতবর্ষের নাগরিক কিনা। রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং বেলুড় মঠেরও অনেক সাধু সন্তদের নাম বাদ গেছে। সাধুসন্তদেরও আজকাল ভারতীয় বলে প্রমাণ করতে হচ্ছে বিজেপির কাছে। এখন বলছে কেরোসিন ডিলারদের কাছ থেকে গ্যাস দেবে, এটা আমারই দাবি ছিল। গণতন্ত্রের কোনো মানুষ বিবেচনা করবে না, মোদের জানাই ধিক্কার, ওদের জানাই ছি! ছি! বিজেপি লজ্জা লজ্জা। বলছে বাংলার লোকেদের মাছ খাওয়া যাবে না, মাংস খাওয়া যাবে না, বাংলার লোকেরা তো মাছ ভাত খেয়ে বেঁচে থাকে, মাছ মাংস খাবে না তো কী, মাথা খাবে? চারিদিকে গ্রামবাংলায়, রাস্তাঘাটে বাজারে, রটিয়ে দিন বিজেপি বাংলা বিরোধী। ওদেরকে কেউ ভোট দেবেন না। জোড়া ফুলের লোগো আমার নিজের তৈরি করা মাটির সম্মান রক্ষা করার জোড়া ফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে আমার ২৯৪নং কেন্দ্রের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, যাবার আগে ডাক দিয়ে যাই। বিজেপির দানবরা যতই করো হামলা, তৃণমূল আবার জিতবে বাংলা। তাই এবার আমাদের শপথ নিতে হবে, আমাদের সংগ্রাম চলবে আমাদের সূর্য শিখা জ্বলবেই। বিজেপি তুমি সূর্যের তাপে পুড়ে জ্বলে ছাই হয়ে যাবে। তৃণমূল এখন সমুদ্র। এক একটা ঢেউয়ে বিজেপিকে আছড়ে দেবে। সভা শেষে আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে নিজের গাওয়া গানে নৃত্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

