আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৭ অক্টোবর: রাজ্যে নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিবর্তে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের পেটে লাথি মারছে তৃণমূল৷ সেকারণেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল বন্ধা দশায় পরিণত হয়েছে, এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং৷ বুধবার তিনি মজদুর ভবনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, “ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল বন্ধা দশায় পরিণত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে ওয়েভারলি জুটমিল। ধুঁকছে ভাটপাড়া রিলায়েন্স জুটমিল। অথচ রাজ্য সরকারের কোনও হেলদোল নেই।” এদিন জগদ্দলের মজদুর ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই বললেন সাংসদ তথা শ্রমিক নেতা অর্জুন সিং।
তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর আতপুর এক্সাইড ব্যাটারি কারখানায় ৫৫ জনের বেশি বিজেপি সমর্থককে বের করে দিয়েছে তৃণমূলের লোকজন। নতুন কমিটির কয়েকজনকে ওরা জোর করে তৃণমূলের ঝান্ডা ধরিয়ে দিয়েছে।” এখানেই শেষ নয়, সাংসদের আরও অভিযোগ, এক্সাইড কারখানার থেকে বেআইনিভাবে জগদ্দলের ১০ নম্বর গলিতে বস্তি এলাকায় তামা পিউরিফিকেশনের কাজ চলছে। অবিলম্বে এটা বন্ধেরও দাবি করেন তিনি।
সাংসদের দাবি, শিল্পাঞ্চল জুড়ে দেড়শোর বেশি বিজেপি সমর্থিত কর্মীকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক নেতা অর্জুন সিং বললেন, এক্সাইড কারখানাতে যে ভাবে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বাইরে করা হচ্ছে সেটা ম্যানেজমেন্টের ভালো করে জানা উচিত যে কেন্দ্র সরকার এই কারখানার মাল কেনে তাই বিজেপি করা শ্রমিকদের সাথে খারাপ ব্যবহার না করাই কাম্য। তা না হলে জুটমিল ও কলকারাখানার সমস্ত বিষয় এবার কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো হবে।”
তবে অপর দিকে সাংসদ অর্জুন সিংয়ের সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। তিনি এদিন বলেন, “অর্জুন সিং একদম মিথ্যা কথা বলছেন। কোনও কারণ ছাড়া কাউকে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়নি। বরং উনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর যত দিন ইউনিয়ানে ছিলেন ততদিন বাইরে থেকে এমন কি বাংলাদেশ থেকে লোক এনে এই এক্সাইড কারখানায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন। অর্জুন সিং নিজের পরিবার তন্ত্র বাজায় রাখতে পারছে না বলেই এসব বলছে। আসলে উনি ইউনিয়নে থাকা কালীন ৮, লাখ ১০ লাখ টাকা নিয়ে বাইরের লোকেদের এই কারখানায় চাকরি করে দিতেন। আর এখন তৃণমূলের ইউনিয়ন এসব হতে দিচ্ছে না তাই তাঁর রাগ।”

