আমাদের ভারত, ১৮ জানুয়ারি: রবিবারের সিঙ্গুরে বিজেপির সভায় আবারও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে ধর্না দেওয়া হয়, কারণ ওরা এই তৃণমূলের বাঁধাধরা ভোট ভোটব্যাঙ্ক।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, গত ১১ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকার বারবার রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে। সীমান্তে ফেন্সিংয়ের জন্য জমি চাওয়া হলেও তাতেও কোন সাড়া মেলেনি। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ তৃণমূল সরকারের এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই। বরং অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না এবং ভুয়ো নথি তৈরির চক্রকেও প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। মোদী বলেন, আমাদের এই অনুপ্রবেশকারীদের ধরতেই হবে। কাগজপত্র যাচাই করে তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।
তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার শুধু পশ্চিমবঙ্গের আইন শৃঙ্খলা নয়, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাকেও বিঘ্নিত করছে। এর ফলে রাজ্যে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কাজের সুযোগ হারিয়েছে স্থানীয় যুবকরা। মোদীর দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের এখানে সবরকম সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে শনিবারেও মালদায় পরিবর্তন সংকল্প সভার মঞ্চ থেকেও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মুখ খুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন মালদা, মুর্শিদাবাদে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, আর এই কারণেই দাঙ্গার ঘটনা বাড়ছে। তিনি দাবি করেছিলেন, অনুপ্রবেশ বাংলার একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এই সমস্যার প্রভাব শুধু সামাজিক অস্থিরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবেশও বিপর্যস্ত হচ্ছে একাধিক জেলায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশ থেকে ফেরত পাঠাচ্ছে, অথচ বাংলায় তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলে অনুপ্রবেশকারীদের বের করা কার্যতা অসম্ভব। মোদীর দাবি, সাধারণ মানুষের জমি রক্ষা করা তো দূরের কথা, তৃণমূল নেতাও সিন্ডিকেট অনুপ্রবেশকারীদের পোর্টার বানিয়ে একটি চক্র চালাচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয়দের কর্মক্ষেত্রে থাবা বসাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনুপ্রবেশকারীদের কারণেই মা-বোনেরা হেনস্থা হচ্ছেন এবং একের পর এক অপরাধের ঘটনাও ঘটছে। মালদা ও মুশিদাবাদে দাঙ্গার পরিবেশ তৈরির পেছনে অনুপ্রবেশকেই বড় কারণ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

