আমাদের ভারত, ২৪ ডিসেম্বর: একদিকে বাংলাদেশ কাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা। অন্যদিকে শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে গান গাইতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিখ্যাত অভিনেতা সুপার স্টার তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, এই সরকার চাইছে পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানাতে, তাই দুষ্কৃতিদের ছুট দিয়ে রেখেছে।
চন্দননগরের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, আজ মনটা ভালো নেই। খালি মনে হচ্ছে বাংলায় আছি, না বাংলাদেশে? ওপারে কেউ হারমোনিয়াম কেড়ে নিচ্ছে, এপারে মায়ের গান গাওয়ার জন্য বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর কারণ এখানকার সরকার ছুট দিয়ে রেখেছে, বলেছে যে যা খুশি করতে পারে, কেউ বাধা দেবে না।
মিঠুনের কথায়, তারা কোনো ভারতীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়, যারা দেশের জন্য ভাবে, দেশকে ভালোবাসে, তাদের বিরুদ্ধে নন। বিজেপি সেইসব মুসলমানদের বিরুদ্ধে, যারা দেশের ক্ষতি চায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, এরা এই ধরনের লোকেদেরই ছুট দিয়ে রেখেছে। আসলে বাংলাকে তারা পশ্চিম বাংলাদেশ তৈরি করতে চায়।
বাংলাদেশের হিন্দু যুবক দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কলকাতার বেক বাগানে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছিল, সেখানে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সে প্রসঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী গর্জে উঠেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঘটনার প্রতিবাদ করা যাবে না বাংলায়? এখানেও পুলিশ দিয়ে হিন্দুদের মারা হচ্ছে? স্পষ্ট হচ্ছে, সোজা ভাষায় সরকার বলে দিচ্ছে, যা মন চায় তাই করুন, কেউ আটকাবে না, আমরা বাংলাদেশের পক্ষে।
একই সঙ্গে মিঠুনের হুংকার যতদিন এই শরীরে এক বিন্দু রক্ত আছে, কেউ এই বাংলাকে বাংলাদেশ বানাতে পারবে না। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়ি সময় বদলাবে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত বিজেপি কর্মী এবং যারা অরাজনৈতিক সাধারণ মানুষ, সকলকে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আরো জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।

