আমাদের ভারত, ১৩ ডিসেম্বর: কষ্টের রোজগারের টাকায় দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ। আশা বুকে নিয়ে যুবভারতীতে গেলেও তাতে মুহূর্তে জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে। ভিআইপি কালচারের কারণে হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে এক ঝলক দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বিপুল সংখ্যক দর্শক। আর মেসি মাঠ ছাড়তেই যুবভারতী কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ক্ষোভের আগুনে তছনছ হয়েছে বাঙালির সাধের যুবভারতী স্টেডিয়াম। রাজনৈতিক মহলেও তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়েছে। রাস্তা থেকেই ফিরে যেতে হয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস ও তৃণমূল সরকারকে দায়ী করে সরব হয়েছেন সুকান্ত, সজল, অমিত মালব্যরা। মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে তদন্ত কমিটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ঘটনায় তোপের পর তোপ দেগেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
সজল ঘোষ বলেছেন, সাধারণ মানুষ হাজার হাজার টাকার টিকিট কিনেছেন। ন্যূনতম টিকিটের দাম প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। একশো দিনের কর্মীদের সারা মাসের কামাই একটা টিকিটের দাম। সেখানে একদল চোর আর চোরেদের বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ডরা মেসিকে ঘিরে রেখে দিল। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
গোটা মাঠ জুড়ে তান্ডব চলেছে। ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তোরণ, গ্যালারির চেয়ার, এমনকি গোল পোষ্ট ভাঙ্গা হয়েছে। আগুনও লাগানো হয়েছিল। কলকাতা তথা আপামর বাংলার গর্ব যুবভারতী আজ তার ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। এই চূড়ান্ত অবস্থার দায় কার? এই ঘটনায় তোপ দেগেছেন বঙ্গ বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেছেন, যারা বোতল ছুড়েছে তারাও তৃণমূল। তারা অরূপ বিশ্বাসের লোক। আমার কাছে এমনই খবর আছে। টিকিটের দাম পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল। সেই টিকিটের কালোবাজারিও হয়েছে। পুরাটাই একটা মেস। বলা ভালো মেসি অন মেস। পুরোটাই করলো তৃণমূলের অসভ্য বর্বর নেতা-নেত্রীরা। এ ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতেই জানে না।
অন্যদিকে বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগের উপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। প্রত্যেক ফুটবলপ্রেমীকে অপমান করেছে।
ঘটনায় সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম এই ঘটনায় কটাক্ষ করে বলেছেন, নবান্নে কিন্তু এখনো ভাঙ্গচুর হয়নি। কালীঘাটে এখনো ভাঙ্গচুর হয়নি। বাংলায় খেলা হোক, মেলা হোক, বইমেলা হোক, দুর্নীতি হবে না? বিশৃঙ্খলা হবে না? কালোবাজারি হবে না?

