নীল বণিক, আমাদের ভারত, কলকাতা, ৬ মার্চ:
দু’মাস আগে বিজেপি থেকে ইস্তফা দেওয়া ক্যাপ্টেন নলিনী রঞ্জন রায়কে প্রার্থী করল তৃণমূল। উত্তরবঙ্গের মাটিগাড়া নকশালবাড়ি আসন থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে রাজ্যের শাসক দল। এই ছন্দপতনে সমালোচনার ঝড় বইছে বিজেপি শিবিরে। প্রশ্ন উঠেছে কেন এইরকম ব্যক্তিকে দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল?
রাজ্য বিজেপির বুদ্ধিজীবী সংগঠনে কো–কনভেনার ছিলেন নলিনী রঞ্জন রায়। গত ডিসেম্বর মাসে তাঁকে এই পদ দেয় বিজেপি। রাজ্য বিজেপির হয়ে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছেন। বুদ্ধিজীবী সংগঠন যাতে ঠিকমত এগোয় তার জন্য গোটা পশ্চিমবঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তুু কিছুদিন যেতে না যেতেই ছন্দপতন হয়। কিন্তু দুমাসের বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি পদত্যাগ করেন। নলিনী রঞ্জন রায় জানিয়েছেন, আমার সঙ্গে দলের মতাদর্শগত পার্থক্য হচ্ছিল। তাই চিঠি দিয়েই আমি পদত্যাগ করেছি। বর্তমানে আমি তৃণমূলের বিধায়ক পদে লড়াই করছি। এখন সেই কাজটাই মন দিয়ে করতে চাই বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে নলিনী রঞ্জন রায়ের দলত্যাগের বিষয়টি বড় করে দেখছে না বিজেপি নেতা তথা বুদ্ধিজীবী সংগঠনের কনভেনার রন্তিদেব সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, আপদ বিদায় হয়েছে বাঁচা গিয়েছে। টিকিটের লোভেই তৃণমূলে গিয়েছিলেন, সেখানে গিয়ে সফল হয়েছেন। এইরকম লোক নিয়ে বেশি ভাবতে চাই না বলেও জানিয়েছেন রন্তিদেব সেনগুপ্ত।
নলিনী রঞ্জন সেনগুপ্তকে নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিজেপিতে। সুসংগঠিত একটা সর্ববৃহৎ দলে এই ঘটনা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের প্রশ্ন বিজেপিতে যোগদেওয়ার পরেই চিন্তাভাবনা না করে কী করে এই ধরনের ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল, যিনি দুমাস পরেই জানিয়ে দিলেন, তাঁর সঙ্গে মতাদর্শগত পার্থক্য হচ্ছে। এমন কী বিজেপির ওয়েবসাইটে এখনও তিনি বুদ্ধিজীবী সেলের কো–কনভেনার হিসাবে রয়েছে। এই নিয়ে এখন শোরগোল রাজ্য বিজেপির অন্দরে।


