জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৮ জুলাই: বিনা টেন্ডারে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ। দুর্নীতি আর স্বজন পোষণের অভিযোগ উঠল গলসী-১ নং ব্লকের চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতে। আর এই অভিযোগে গ্রামবাসীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন খোদ পঞ্চায়েতের এক সদস্য ও উপপ্রধান। পঞ্চায়েত ভোটের আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে চরম অস্ততিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে গলসী-১ নং ব্লকের চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মাসকয়েক আগে ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলে জেলাপ্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান অশোক ভট্টাচার্য্য। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় একাধিক রাস্তা, নিকাশী নালার বেহাল অবস্থা। সাধারন মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রজেক্ট রিপের্ট তৈরী করে অনুমোদনের জন্য দফায় দফায় পাঠানো হয়েছে। অথচ গত ডিসেম্বর মাস থেকে ব্লক প্রশাসন এনআরইজিএস প্রকল্পে কোনওরকম অনুমোদন দেয়নি। ফলে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”
মাস কয়েক আগে পঞ্চায়েতের সচিবকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশিকা নিয়ে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সচিব নিয়োগ হয়নি। একজন আধিকারিক দুটি পঞ্চাায়েতের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এদিকে রাস্তাঘাট সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। ওই পঞ্চাায়েতের শালডাঙার বাসিন্দারা ইতিমধ্যে বেহাল রাস্তার দরুন ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে সরব হয়েছে। তারপর সম্প্রতি পঞ্চায়েতের টেন্ডার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ময়না বাগদী সহ জনা ১৫ বাসিন্দা।
উপপ্রধান ময়না বাগদী, সদস্য মাধবী ঘোষ সহ দেবব্রত ঘোষ, গৌতম সামন্ত, উত্তম দরবার, বাপ্পা সামন্ত, উজ্জ্বল কবিরাজ, সুরজিৎ আকুড়ে, রিন্টু বাগদী প্রমুখ বাসিন্দাদের অভিযোগে, “চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় ৮ টি নির্মাণ কাজ টেন্ডার ছাড়াই হচ্ছে। পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। তাই গোটা বিষয়টি তদন্তের দাবী জানিয়েছি এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে অনলাইনে টেন্ডার আহ্বান করার দাবী জানিয়েছি।”
প্রশ্ন, টেন্ডার ছাড়াই কিভাবে কাজের ওয়ার্ক অডার দেওয়া হল? যদিও পঞ্চায়েত প্রধান অশোক ভট্টাচার্য্য অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “সমস্ত কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হয়। কোনওরকম অনিয়ম হয় না।” তিনি আরও বলেন, “প্রায় একবছর ধরে এলাকার রাস্তা, নিকাশী সংস্কার সহ একগুচ্ছ কাজের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল ব্লকে। কিন্তু তার কোনও অনুমোদন না দেওয়া উন্নয়নের কাজ থমকে। ফলে এলাকার রাস্তাঘাট বেহাল হয়ে পড়েছে। সমস্যা বাড়ছে গ্রামবাসীদের। এখন গ্রামবাসীদের স্বার্থে ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত, মন্দিরের পাশে পুকুরে গার্ডওয়াল দেওয়ার কাজ যদি কেউ করে দেয়। তাতে আপত্তি কিসের। যারা মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে, বদনাম রটাচ্ছে, তারও ওই রাস্তা ব্যাবহার করে।” তিনি আরও বলেন, “যারা অভিযোগ করছে, তারা এলাকার উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে। এধরনের নোংরা রাজনীতি সমাজকে দলকে কলুষিত করছে। এরা সমাজের ভালো চায় না।”
চাকতেঁতুল পঞ্চাায়েত তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড গঠন করেছে। তারপর খোদ উপপ্রধান এহেন অভিযোগ তোলায় শাসকশিবিরে গোষ্ঠীকোন্দল আবারও প্রকাশ্যে। পঞ্চায়েত ভোটের আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও তৃণমূলের গলসী-১ নং প্রাক্তন ব্লক সভাপতি জনার্দ্দন চট্টোপাধ্যায় জানান, “মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন স্বচ্ছতার সঙ্গে টেন্ডারসহ যাবতীয় কাজ করতে হবে। গ্রামবাসীরা অস্বচ্ছতার অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তার তদন্ত হবে।” গলসী-১ নং বিডিও দেবলীনা দাস বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”

