আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৩০ জুন: নির্দল প্রার্থী হওয়ায় একটি পরিবারকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। যদিও নির্দল প্রার্থী পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কোনো দিন তৃণমূল করেননি। তবে অঞ্চল সভাপতিই তাকে প্রার্থী করেছিলেন। দল টিকিট না দেওয়ায় জনগণের দাবিতে নির্দল হয়ে লড়তে হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির ৭ নম্বর আসনে প্রার্থী হয়েছেন অর্পিতা সরকার। আয়াস গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওই আসনে ২০০৮ সালে প্রার্থী ছিলেন অর্পিতার স্বামী বামাচরণ মজুমদার। ২০১৩ সালে তিনি জয়ী হয়ে কৃষি কর্মাধক্ষ হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তৃণমূলের টিকিটে বামাচরণের স্ত্রী ওই আসনে জয়ী হন। ফলে এবার বামাচরণ বউমা অর্পিতা সরকারকে প্রার্থী করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল টিকিট দেয়নি অর্পিতাকে। পরিবর্তে দল প্রার্থী করেছে প্রশান্ত কুমার লেটকে। দলের বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হওয়ায় শুক্রবার অর্পিতার শ্বশুরবাড়ির পরিবারকে বহিষ্কার করে দল।
এদিন দলের রামপুরহাট কার্যালয়ে বিধায়ক তথা ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ব্লক সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মিকে পাশে বসিয়ে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “প্রার্থীর শ্বশুর বামাচরণ মজুমদার দুবার আমাদের টিকিটে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে জয়ী হয়েছিলেন। গতবার বামাচরনের স্ত্রী জয়ী হয়েছিলেন। বউমা আমাদের কর্মী সমর্থক নন ঠিকই। কিন্তু পরিবার তাকে প্রচারে সহযোগিতা করতে পারে ভেবেই পরিবারকে বহিষ্কার করা হয়েছে”।
অর্পিতা বলেন, “মাস ছয়েক আগে আমার বিয়ে হয়েছে। আমি কোনো দিন তৃণমূল করিনি। তবে এবার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি আমাকে প্রার্থী করার জন্য মনোনয়ন জমা দিতে বলেছিলেন। কিন্তু দল টিকিট দেয়নি। ফলে মানুষের দাবি মেনে আমি নির্দল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। মানুষ আমার সঙ্গে আছে”।
বামাচরণ মজুমদার বলেন, “আমি এবং আমার স্ত্রী তিনবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলাম। ফলে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ করতাম। এবারও অঞ্চল সভাপতির কথা মতো বউমাকে প্রার্থী করা হয়েছে। দল টিকিট না দেওয়ায় নির্দল হয়ে লড়াই করব। দল কেন বহিষ্কার করল বলতে পারব না”।
অঞ্চল সভাপতি আকবর আলম বলেন, “আমাদের লোক ছিল। দল ওকে বহিষ্কার করেছে। এখন আর আমাদের প্রার্থী থাকল না”।

