সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৭ জুলাই: তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীর দাদাগিরিতে লাটে উঠল স্কুলের পঠপাঠন। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর কুমুদিনী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বনগাঁ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বন্দনা দাসের স্বামী অমিতাভ দাসের বিরুদ্ধে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সহ অন্যান্য শিক্ষিকারা। তাঁদের অভিযোগ, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে লাগাতার দুর্ব্যবহার করেন অমিতাভবাবু। প্রতিবাদ করলেই সুন্দরবনে বদলি বা গাড়ি চাপা দিয়ে খুন করার হুমকি দেন।

স্কুল সূত্রের খবর, অমিতাভবাবু ওই স্কুলেরই শিক্ষক। অভিযোগ, স্ত্রী কাউন্সিলর এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক- শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন অমিতাভ দাস। বিষটি জেলা স্কুল পরিদর্শককে জানিয়েও কোনে লাভ হয়নি। এদিন সকালে প্রার্থনা চলাকালীন ছাত্রীদের সামনে এক শিক্ষিকার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন তিনি। রীতিমত মারমুখী হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। এরপরই প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন অন্য শিক্ষকরা। একজোট হয়ে তাঁরা স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ রেখে অমিতাভবাবুর বিরুদ্ধে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওদিকে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যান অভিযুক্ত শিক্ষক।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মলিনা শিকদার জানিয়েছেন, ‘অমিতাভবাবু স্ত্রীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে যখন খুশি স্কুলে আসেন। ওয়ার্ডে কাজ রয়েছে বলে যখন খুশি স্কুল থেকে চলে যান। স্কুলে থাকলে বেশি সময় মোবাইলেই থাকেন তিনি। প্রতিবাদ করলে স্কুলের শিক্ষকদের নানা ধরণের হুমকি দেন। বৃহস্পতিবার স্কুলে প্রার্থনা চলাকালীন এক শিক্ষিকাকে হুমকি দিতে থাকেন তিনি। এরপর বিষয়টি পুলিশে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।’ অবিতাভবাবু চান তাঁর কথাই স্কুলের শেষ কথা হবে। তিনি একজন তৃণমূলের প্রতিনিধি। এছাড়া তাঁর স্ত্রী একজন তৃণমূলের কাউন্সিলর। তাঁর কথা মতো কেউ না চললে কাউকে সুন্দরবনে পাঠিয়ে দেবে। কাউকে আবার গাড়ি চাপা দিয়ে মেরেও ফেলতে পারেন এমনই হুমকির মুখে পড়তে হয় শিক্ষিকাদের।

এব্যাপারে অমিতাভবাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাফল্য মেলেনি। তাঁর স্ত্রী বন্দনাদেবী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ‘স্কুলে কী হয়েছে জানি না। আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে’। আমিও ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। তিনি বলেন, অমিতাভের পরিবার শিক্ষিত। এর আগে তাঁর মা বনগাঁ পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। ওই শিক্ষিকারও অন্যায় আছে। পুলিশ তদন্ত করবে।
বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া বলেন, এটা তৃণমূলের কালচার। ওই স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষিকাদের বনগাঁর বাইরে বাড়ি। তাই তাঁদের ধমকে চমকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছিল তৃণমূলের কাউন্সিলরের স্বামী। এই অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না।

