সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৬ জুন: বোমা বিস্ফোরণে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলর পাপাই রাহার সঙ্গে ধৃতদের সরাসরি যোগ আছে। সোমবার ঘটনার পর মৃত কিশোরের পরিবারের সঙ্গে সেটিং করতে গিয়েছিল ওই তৃণমূল কাউন্সিলর। যাতে এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না করে কিশোরের পরিবার। এমনই অভিযোগ করলেন বনগাঁর বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল। অভিযোগ অস্বীকার করেন বনগাঁ পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পাপাই রাহা।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় শৌচাগারে বোমা বিস্ফোরণের জেরে কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের এক জনের নাম বাপ্পা বিশ্বাস। তিনি বছর তিরিশের যুবক। অন্য জনের নাম অসিত অধিকারী। তিনি পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রৌঢ়। তাঁরা ওই শৌচাগারে বোমা রেখেছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। এর পিছনে আর কেউ যুক্ত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার বোমা বিস্ফোরণে মৃত ১১ বছরের কিশোর রাজু রায়ের ঘটনায় ধৃত অভিযুক্ত অসিত অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের কাউন্সিলর পাপাই রাহার যোগ আছে এমনই দাবি করে বিজেপি নেতা দেবদাস মন্ডল বলেন, বনগাঁ পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পাপাই রাহার সঙ্গে ধৃত অসিত মন্ডলের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এরা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী।
সোমবার সকালে ঘটনার পরই অভিযুক্ত অসিত ও পাপাই রাহা একসঙ্গে মৃত কিশোরের বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করছিলেন। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে৷ কিশোরের মৃত্যুর জন্য তৃণমূল নেতারাই দায়ী এমনটাই অভিযোগ বিজেপি নেতার৷ এছাড়া তাঁর অভিযোগ ওই এলাকায় হেরোইন গাঁজা সহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তৃণমূলের এক অংশের নেতারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। পুলিশ সঠিক তদন্ত করলে তৃণমূল কাউন্সিলর পাপাই রাহার নাম উঠে আসবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর পাপাই রাহা বলেন, দেবদাস মন্ডল একজন দুষ্কৃতী৷ উনি দুষ্কৃতীদের ভালো চেনে। ওনার কথার কোনো উত্তর দেবো না। মৃত কিশোরের বাড়ি একবারও যায়নি। এখন মুখ দেখানোর জন্য বিজেপি নেতারা ক্যামেরার সামনে এসেছিল৷ এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বনগাঁ থানায় স্মারকলিপি জমা দিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মানবাধিকার বিভাগ।

