“তৃণমূল কংগ্রেস সমাজের বিষ, মুখ্যমন্ত্রী চোরের পাশে দাঁড়িয়েছেন,” বিস্ফোরক সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ২০ আগস্ট: পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জেল হেফাজতের পর তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে সিবিআই গ্রেফতার করে। একের পর তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার ঘটনায় সরব বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি বার বার এই সরকারের পতনের সময় চলে এসেছে বলে দাবি করেছেন। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডলের দুর্নীতির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তাঁর দাবি, যেভাবে অনুব্রতর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠে এসেছে, তাতে তৃণমূল কংগ্রেস দলটা সমাজের বিষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন তিনি আসলে একজন চোরের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

১০ দিন পর অনুব্রত মণ্ডলকে আজ ফের আদালতে তোলা হলে সিবিআই অভিযোগ করে তিনি তদন্তে সহোযোগিতা করছেন না। তাই তাকে আর কিছু দিন হেফাজতে দেওয়া হোক। আদালত আর চার দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে অনুব্রত মণ্ডলকে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন,”সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে তদন্তকারীদের আঙ্গুল বাঁকাতে হবে”। অনুব্রত মণ্ডল সম্পর্কে সুকান্ত মজুমদার বলেন, দেখুন , “চোর কোনোদিন পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করে না। এটাই স্বাভাবিক। সোজা আঙ্গুলে যদি ঘি না ওঠে তাহলে আঙ্গুল বাঁকা করতে হবে ঘি ওঠানোর জন্য। তবেই সব ঠিক হয়ে যাবে।”

শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের গড় বীরভূমের বোলপুরে হানা দেয় সিবিআই। সেখানে ভোলে ব্যোম নামে একটি চালকলের ভেতর পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি তারা দেখতে পান। সেই গাড়ির মধ্যে একটিতে চেপে কলকাতাতে এসএসকেএম-এ এসেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তবে পাঁচটি গাড়ির মধ্যে তিনটি অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। সিবিআইএর এই হানার পর এক গাড়ি ব্যবসায়ী বিস্ফোরক অভিযোগের করেছেন অনুব্রতর বিরুদ্ধে। সাঁইথিয়ার ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, অনুব্রত তাকে গাঁজা কেসে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫ কোটি টাকার উপর নগদ এবং ৩টি গাড়ি নিয়ে নিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “শুক্রবার বীরভূমের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মুখ থেকে তোলাবাজি যে গল্প শুনেছি, তাতে অবাক হয়েছি। তোলাবাজি জানতাম কিন্তু তা বলে কোটিতে তোলাবাজি? গাড়ি তোলাবাজি করে নিয়ে নেওয়া হয়? দামি দামি গাড়ি শুধুমাত্র গাঁজা কেসের ভয় দেখিয়ে নিয়ে নেওয়া হয় আমরা ভাবতে পারছি না।”

বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের সংযোজন, “এভাবে এই নেতারা মানুষকে দিনের পর দিন শোষণ করেছেন। তাদের থেকে সমাজকে বাঁচানোর একান্ত প্রয়োজন। তৃণমূল দলটাই আমাদের সমাজে পলিটিক্যাল পয়জন (সামাজিক বিষ) হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দলটাকে পলিটিক্যাল সিস্টেম থেকে বের করে দেওয়া উচিত। না হলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য কোনোটাই বাঁচবে না।”

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে না দাঁড়ালেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে অনুব্রত মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপি নেতার দাবি, বাংলার মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়টি। দুদিন আগে যখন বোলপুরে ছিলাম সেখানকার সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস বারবার প্রমাণ করেছে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী একজন চোরের পাশে দাঁড়িয়েছে, আর মানুষ এটা ভালোভাবে নিচ্ছে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *