বাংলার পঞ্চায়েত নির্বাচনে খুনের খেলা খেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস: মোদী

আমাদের ভারত, ১২ আগস্ট: আজ কোলাঘাটে বিজেপির ক্ষেত্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ সম্মেলনের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনে যোগ দেন মোদী। সেখানে রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসা নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলার পঞ্চায়েত নির্বাচনের খুনের খেলা খেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

পঞ্চায়েত জেলা পরিষদের কর্মীদের ক্ষমতা ও কাজের খতিয়ার বোঝাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, জেলা পরিষদের অধ্যক্ষরা রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রীর থেকেও বেশি ক্ষমতা রাখেন। অনেক কাজ করতে পারেন। বিজেপির কার্যকর্তা হিসেবে আপনারাও জেলায় জেলায় ভালো কাজ, ভালো ব্যবহার দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জিতেছেন। সেই কারণে মানুষও আপনাদের উপর বারবার আস্থা প্রকাশ করেছে। প্রয়োজন পড়লে বিজেপির কর্মীরা নিজেদের রক্ত দিয়ে লড়াই করেছেন।

এরপরই পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটের প্রসঙ্গ টেনে নরেন্দ্র মোদী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মীরা যেভাবে ভারত মাতার জন্য রাজ্যের উন্নতির জন্য সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছেন সেটা এক প্রকারের সাধনা। নিজেদের তিলে তিলে জ্বালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরব ফেরানোর চেষ্টা করছেন। পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে তৃণমূল খুনের খেলা খেলেছে। গোটা দেশ তার সাক্ষী রয়েছে।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের সন্ত্রাসের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের প্রথম কৌশলী হল নির্বাচনের জন্য সময় না দেওয়া। এতো তাড়াতাড়ি নির্বাচনের দিন ঘোষণা করবে যে প্রস্তুতি, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগই পাওয়া যাবে না। বিজেপি বা কোন বিরোধী দল যাতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারেন তার জন্য সব রকমের চেষ্টা চালানো হয়। এরপর যদি কেউ বুদ্ধি করে মনোনয়ন জমাও দেন তবে তাদের প্রচার করতে দেওয়া হয় না। ভোটারদের ভয় দেখানো হয়। বিজেপি কর্মীদের পরিবারকে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হয়। ভোট সন্ত্রাস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন নির্বাচনের সময় ধাপ্পাবাজি করা হয়। ছাপ্পা ভোট দেওয়া হয়। বুথ দখলের জন্য গুন্ডাদের ভাড়া করা হয়। ব্যালট নিয়ে পালিয়ে যায়। ভোট গণনার সময় বাধা দেওয়া, বিজেপি কর্মীদের বুথে বসতে দেওয়া হয় না।

তবে এবারের রাজ্যের পঞ্চায়েতের ফল নিয়ে খুশি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এতকিছুর পরেও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপি কর্মীদের আশীর্বাদ করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কিন্তু ভোটের এই ফলাফলের পরও বিজেপিকে বিজয় মিছিল করতে দেওয়া হয় না। মিছিলে হামলা করা হয়। প্রাণঘাতী হামলা করা হয়। এটাই তৃণমূলের রাজনীতি।

মোদী বলেন, “বাংলায় আদিবাসী ভাই বোনেদের কিভাবে প্রতারিত করা হচ্ছে তা আমরা জানি। এরপরও বিজেপি কর্মীরা জয়ী হয়েছেন, আমি তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *