আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ৩ জানুয়ারি: “তৃণমূল কংগ্রেস ষড়যন্ত্র করছে পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের ব্র্যান্ড আম্বাসাডার নাইট রাইডার্স টিমের মালিক শাহরুখ খান বাংলাদেশ থেকে ক্রিকেটার নিয়ে এসেছে। বিসিসিআই জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দু নিধন চলছে, তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটেরকে খেলানো যাবে না। তৃণমূল, শাহরুখ খান এবং ইসলামিক ষড়যন্ত্রকারীরা এসব করেছে। শাহরুখ খান যদি এরকম ধর্মীয় খেলা খেলে তাহলে ওকে দেশ থেকে তাড়িয়ে বাংলাদেশে পাঠাব।” শনিবার বোলপুর সাংগঠনিক জেলার ময়ূরেশ্বরে পরিবর্তন সংকল্প সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। এই সভার ডাক দিয়েছিলেন বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল সিনহা বলেন,”বিজেপি মুসলমান বিরোধী নয়, তবে ভারত- পাকিস্তান খেলায় ভারত হারলে যারা পটকা ফাটায়, মিষ্টি বিতরণ করে তাদের আমরা ভারত থেকে লাথি মেরে তাড়াব। যারা ভারতের খেয়ে পরে মানুষ হবে, ভারতমাতার জয়গান করবে, সেই সব মুসলমান ভাইদের আমরা বুকে টেনে নিয়ে নতুন ভারত গড়ব। আমরা পাকিস্তানি, বাংলাদেশি মুসলমান চাই না।”
রাহুলবাবু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এখন আর ইনশাল্লাহ বলছেন না। বিজেপির চাপে পড়ে বিষ্ণু দেবতাকে বিষ্ণু মাতা বলছেন। কে মাতা, কে পিতা সেটাও তিনি ভুলে গিয়েছেন। মুসলমানের সব থেকে বড় শত্রু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ হাদিশে আছে মুসলমান ছাড়া কেউ হিজাব পরতে পারে না, রোজা রাখতে পারে না। আর আপনাদের ধর্মটাকে একটা নাটকের মঞ্চ বানিয়েছে মমতা।”

সংখ্যালঘু তোষণ নিয়ে রাহুলবাবু বলেন, “বছর ছয়েক আগে দুর্গা পুজোর ভাসান এবং মহরম একদিনে পড়েছিল। আমরা বলেছিলাম, দুর্গা প্রতিমা একদিকে যাবে অন্য রাস্তায় যাবে মহরম। একসঙ্গে আমরা ধর্ম পালন করব। কিন্তু মমতা বলেন, দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন বন্ধ করে ওইদিন মহরম চলবে।” এপ্রসঙ্গে রসিকতা করে রাহুল সিনহা বলেন, “মা দুর্গা মণ্ডপে বন্দি। তার পাশ দিয়ে ঠাক ঢোল বাজিয়ে মহরম যাচ্ছে। মা দুর্গা সেই সময় কার্তিক ও গনেশকে বললেন বাইরে বেরিয়ে দেখো আমরা ভুল করে পূর্ব বাংলাদেশে চলে আসেনি তো? কার্তিক – গণেশ ফিরে এসে বললেন, না মা আমরা পশ্চিমবঙ্গেই এসেছি। কিন্তু এখানে মমতা বেগমের রাজত্ব চলছে। তাই তো বাংলাদেশে দীপু দাস হত্যা হয়, আর সামসেরগঞ্জে হরগোবিন্দ দাস ও তার ছেলে খুন হয়। বাংলাদেশে চলছে ইউনুস সরকার, এখানে তার বোনের সরকার চলছে।” মমতা বিশ্বাসঘাতক। সময় হলে মুসলমানদেরও পরিত্যাগ করবে। ওয়াকফ নিয়ে মমতা সব থেকে বেশি বিরোধিতা করেছিলেন। এখন তিনিই রাতারাতি ওয়াকফ লাগু করে দিয়েছে।”
রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করে রাহুল সিনহা বলেন, “স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তাইতো পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ভেলোর, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু যেতে হচ্ছে।” তৃণমূলের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এরা বালি, কয়লা, গরু পাচার করছে। ১০০ দিনের টাকা চুরি করেছে। তাই কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এসে তৃণমূল নেতাদের গলায় হাত ঢুকিয়ে কালো টাকা উদ্ধার করব। বাড়ি, গাড়ি উদ্ধার করে মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেব। আমরা ক্ষমতায় এসে ফের সিঙ্গুরে শিল্প গড়ব।”

