পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৯ সেপ্টেম্বর: বোর্ড গঠন করলেও নিজের এলাকায় রাজনৈতিক অদূরদর্শিতায় মুখ পুড়ল তৃণমূল জেলা সভাপতির। কুমারগঞ্জের সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ডাকা অনাস্থা ভোটের এদিন ছিল বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া। সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েও এদিন পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন জেলা সভাপতি। বুধবার এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পঞ্চায়েতের ভিতরে পুলিশের সামনেই নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল কর্মীরা।যদিও আইসির নেতৃত্বে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ এলাকায় পৌছে স্বাভাবিক করে পরিস্থিতি।
সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্দল প্রধানের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ তুলে অনাস্থা আনে তৃণমূল। ৬ সেপ্টেম্বর অনাস্থা ভোটের পরে এদিন নতুন প্রধান নির্বাচন ছিল। পঞ্চায়েতের দখল নিতে মরিয়া তৃণমূল মঙ্গলবার রাতেই তাদের নির্দেশিকা পঞ্চায়েত সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেয় বলে দলীয় সুত্রের খবর। বিজেপি ছেড়ে আসা পঞ্চায়েত সদস্য জবা রায়কেই প্রধান হিসাবে সীলমোহর দেয় সেই নির্দেশিকায় বলে দলীয় সুত্রের খবর। আর যারপরে এদিন দুপুর ১২ টা থেকে চলা প্রধান নির্বাচনে প্রায় তিন ঘণ্টা ভোটাভুটির পর তৃণমূল সদস্যা রুনা লাইলা বেগমকে নতুন প্রধান নির্বাচন করা হয়। যিনি পঞ্চায়েতের ১৭ টি ভোটের মধ্যে ১৫ টি পান। যাকে ঘিরেই সামনে এসেছে জেলা তৃণমূল সভাপতির কিছুটা রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা। খোদ জেলা সভাপতির খাস তালুকে এমন ঘটনায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে দলের অন্দরেই।

উল্লেখ্য, ১৭ আসন বিশিষ্ট ওই পঞ্চায়েতে বিজেপির আট সদস্যকে নিয়ে নির্দলের তিন সদস্য বোর্ড গঠন করে ২০১৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে। বামেরা একটি আসন পেলেও তৃণমূল মাত্র পাঁচটি আসন দখল করতে পারে। কিন্তু এরপরে নির্দল পঞ্চায়েত প্রধান জয়নুর বেউয়া চৌধুরীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে অনাস্থার ডাক দেয় তৃণমূল। যে নির্বাচনে বিজেপি এবং নির্দল সকলেই তৃণমূল প্রধান রুনা লাইলা বেগমকে সমর্থন করায় কার্যত অবাক হয়েছেন অনেকেই। জবা রায়ের পরিবর্তে রুনা লাইলা বেগমকে প্রায় সকলেই সমর্থন করায় কার্যত নিজের এলাকায় জেলা সভাপতির মুখ পুড়েছে বলেই মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল।
যদিও সেই প্রশ্ন কিছুটা এড়িয়ে গিয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাক বলেন, তাদের ভূমিকা খুবই নগন্য ছিল। কিন্তু বিগত প্রধানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকলেই তৃণমূলকে সমর্থন করেছে।
বিজেপির উপপ্রধান খায়রুল মোল্লা জানিয়েছেন, দুর্নীতি মুক্ত পঞ্চায়েত গড়তে এদিন তারা সকলে একজোটে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন।
নতুন প্রধান রুনা লাইলা বেগম জানিয়েছেন, সকলে তার উপর আস্থা রেখেছেন। তিনি উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন।
পঞ্চায়েত উন্নয়ন আধিকারিক উল্লাস ভট্টাচার্য বলেন, প্রধানের দাবিদার দু’জন ছিল। রুনা লাইলা বেগম
১৫ টি ভোট পেলেও জবা রায় মাত্র দুটি ভোট পেয়েছে।
বিদায়ী প্রধানের ছেলে হোচিমিন চৌধুরী বলেন, তৃণমূল তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনলেও
বিশ্বাসঘাতকদের হঠাতে সকলে রুনা লাইলা
বেগমকে ভোট দিয়েছেন।

