স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২জানুয়ারি: যে সরকারি দেওয়ালে গাছ লাগানোর কথা বলা রয়েছে, সেই স্থান থেকেই চলছে বৃক্ষ ছেদন। তৃণমূল পরিচালিত কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে গাছ চুরি করে বেচে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। ঘটনা নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের সরকারি জৈব কৃষি খামারের। যার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে কৃষি দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের না জানিয়ে প্রধান জৈব সার প্রজেক্টের ভিতরে থাকা গাছগুলিকে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জেনারেল মিটিংয়ে কোনরকম আলোচনা হয়নি, রেজুলেশন হয়নি। কদমগাছ সহ একাধিক শিশু গাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে।
কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য পরিতোষ বিশ্বাস বলেন, কিভাবে একের পর এক গাছ কোনো রকম আলোচনা ছাড়া বনদপ্তরের পারমিশন ছাড়া কী করে বিক্রি করল আমরা তা তদন্ত করার জন্য কৃষ্ণগঞ্জের বিডিওকে আবেদন জানিয়েছেন। পরিতোষ বাবুর কথায়, যেখানে সরকার থেকে গাছ কাটার পর গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দেয়, সেখানে বিনা বিচারে প্রধান গাছগুলো কেটে আত্মসাৎ করেছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই।

এ ব্যাপারে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা ছন্দা মালি বলেন, জেনারেল মিটিং- এ কোনরকম আলোচনা হয়নি। গাছ কাটার কোনো রেজুলেশন হয়নি এবং কোনরকম পারমিশন নেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েতের প্রধান কিভাবে গাছ বিক্রি করে? আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই এবং দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিডিওকে অনুরোধ জানাবো।
কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা গৌতম ঘোষ বলেন, আমাদের কয়েকটা ডাল দেখিয়ে বলা হয়েছিল ডাল কাটা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি অনেকগুলি মোটা গাছ কেটে হাপিস করা হয়েছে। আমরা এর তদন্ত চাই।
এ ব্যাপারে কৃষ্ণগঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সন্দীপ বোসকে প্রধানের গাছ কাটার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস দল এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়। প্রধান যদি গাছ বিক্রি করে থাকেন সে দায়িত্ব তার। প্রশাসন তদন্ত করে দেখুক। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে প্রধানের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনত ব্যবস্থা নেবে। তৃণমূল দল অন্যায়ের পাশে দাঁড়াবে না।
এ ব্যাপারে কৃষ্ণগঞ্জের পঞ্চায়েত প্রধানের গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেপির জেলার নেতা অমিত প্রামানিক বলেন, বালি চুরি, পাথর চুরি, পায়খানা চুরি, আবাসের ঘর চুরি, চাকরি চুরি, আর এখন যে গাছ চুরি করবে এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার। তিনি বলেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। যে কৃষি খামারে গাছগুলো উধাও হয়েছে, সেই কৃষি খামারটি বিডিওর আন্ডারে পড়ে। বিডিওকে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে হবে। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের রেজুলেশন হয়েছে কিনা, গাছ কাটার সরকারি অনুমোদন আছে কিনা, বিডিও সাহেব তার গাছ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে কিনা, এছাড়াও যে গাছ বিক্রি হয়েছে তার টেন্ডার হয়েছিল কিনা, সেই টেন্ডার কোথায় কোথায় টাঙ্গানো হয়েছিল, কবে টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল, সমস্ত ঘটনাই জানাতে হবে। আর এই ঘটনার যদি প্রমাণ দিতে না পারেন তাহলে বিডিওকে অবিলম্বে প্রধানের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করতে হবে। যদি এটা না হয়, বিজেপি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, তৃণমূল দলটাই চোরেদের দল। সেটা আবার গাছ চুরির মাধ্যমে প্রমাণিত হলো।
এ ব্যাপারে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মদন ঘোষের সাক্ষাৎ পাওয়া না গেলেও ফোনে তিনি বলেন, রেজুলেশন করে বিডিও এবং ফরেষ্ট ডিপার্টমেন্টের অনুমতি ক্রমে তিনি গাছ কেটেছেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাহলে আপনার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা যে অভিযোগ করছেন তার কারণ কী? তিনি বলেন, এটা তার বিরুদ্ধে বিজেপির চক্রান্ত। এখন দেখার, প্রধানের গাছ কাটা নিয়ে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়। তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে কৃষ্ণগঞ্জবাসী।

