পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৪ মার্চ: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরকদমে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার কেশপুর বিধানসভার অন্তর্গত ৯ নম্বর অঞ্চলের আনন্দপুর মাঝিপাড়ায় প্রচার মিছিল ও জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন কেশপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শিউলি সাহা।
এদিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে মহিলাদের ব্যাপক উপস্থিতি মিছিলকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রচারের ফাঁকে শিউলি সাহা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন। ভোটার তালিকা (এসআইআর তালিকা) রাতের বেলা প্রকাশ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, তিনি যে বিধানসভার প্রতিনিধিত্ব করেন সেই আসনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই বিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেন এবং জানান, বিচারপতিরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

শিউলি সাহা আরও বলেন, কেশপুরে কোনও বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী নেই—এখানে শুধুই এই মাটির মানুষের বসবাস। যদি প্রকৃত বাসিন্দাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে তিনি জনগণকে কী জবাব দেবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কেশপুর তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি এবং সর্বত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ছাপ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি সবসময় মানুষের পাশে থেকেছি, তাই এখানে তৃণমূলের আধিপত্য বজায় রয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি দলীয় কর্মীদের আহ্বান জানান, “দিদির হাত আরও শক্তিশালী করতে কেশপুরকে এগিয়ে রাখতে হবে।”
বিরোধীদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর মতে, অতীতে অত্যাচারের কারণে সিপিএম প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। যদিও তিনি ভেবেছিলেন দলটি নিজেদের সংশোধন করেছে, কিন্তু গড়বেতার প্রার্থীকে দেখে তাঁর সেই ধারণা ভেঙে গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে ঘনঘন বদলি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিউলি সাহা। তাঁর অভিযোগ, প্রতিদিন পর্যবেক্ষক ও রিটার্নিং অফিসারদের বদল করা হচ্ছে, এক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং আইপিএস অফিসারদেরও অন্য রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। এই ধরনের ঘনঘন বদলি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলেই তাঁর মত।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে কেশপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে, আর সেই আবহেই ভোটার তালিকা থেকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, একাধিক ইস্যুতে সরব তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা।

