সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৯ জুন: ফের তৃণমূলে ভাঙন বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটিতে। গঙ্গাজলঘাঁটির নিত্যান্দপুর অঞ্চলের চৈতন্যপুর গ্রামে
একটি পথসভা করে গ্রামের শতাধিক কর্মী ঘাসফুল ছেড়ে যোগ দিলেন পদ্ম শিবিরে।
ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব মিটতে না মিটতেই এই ধরনের ভাঙন শাসক দলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের মিডিয়া সেলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মী গগন ঘটক কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। কংগ্রেসে যোগদান করেই তিনি তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়েছেন। আর রবিবার সন্ধ্যায় পথসভা করে গঙ্গাজলঘাঁটির চৈতন্যপুর গ্ৰামের খেতমজুর পাড়ার তৃণমূল কর্মীরা সদলবলে বিজেপিতে যোগদান করে শাসক দলের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এলাকার অন্যতম তৃণমূল কর্মী দিলীপ বাউরি, মঙ্গল বাউরিরা বলেন, একসময় আমরা সিপিআইএম করতাম। ২০১১ সালে বামেদের ত্যাগ করে আমরা তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। কিন্তু গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে আমরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিতই থেকে গেলাম। পাশাপাশি পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে খেতমজুর পাড়ার কাউকে কোনোদিন ভাবা হয়নি। তাহলে কেন আমরা তৃণমূলে পড়ে থাকব? বলে মন্তব্য করেন দিলীপ বাউরি।
এদিন চৈতন্যপুর গ্রামের ২৪০ জন কর্মী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেন বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিল্লেশ্বর সিংহ৷ তিনিই দলীয় পতাকা তাদের হাতে তুলে দেন। পঞ্চায়েত ভোটের মুখে এই দলবদল ভোটে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷
যদিও এই বিষয়ে গুরুত্ব নিতে নারাজ শাসক দল৷
দলের অঞ্চল সভাপতি দেবদাস বাজপাই বলেন, যে পাড়ায় ওরা যোগদান করিয়েছে বলে দাবি করছেন সেটা নাটক ছাড়া কিছুই নয়। যাদের হাতে পতাকা ধরানো হচ্ছে তারা কেউ তৃণমূলের নয়। বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোক এনে ওরা বিজেপির লোককেই পতাকা ধরিয়ে ভোটের বাজার গরম করতে চাইছে।

