বনধের সমর্থনে শ্যামনগরে বিজেপির রেল অবরোধকে কেন্দ্র করে তৃণমূল–বিজেপি হাতাহাতি

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৮ ফেব্রুয়ারি: বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টার বনধে তেমন কোনও প্রভাব পড়তে দেখা গেলো না ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। অন্যান্য দিনের মতো সচল ছিল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের কলকারখানাগুলো। মিল শ্রমিকদের রোজকার মত আজ মিলে কাজ করতে যেতে দেখা গেছে।

বছরের বেশির ভাগ সময় এই জুট মিলগুলি বন্ধ থাকে তাই রাজনৈতিক দলের ডাকা বনধে সেই ভাবে প্রভাব পড়ে না । দোকান বাজারও স্বাভাবিক ছিল অন্যান্য দিনের মতো।

গতকাল সবথেকে বেশি গণ্ডগোল হয়েছিল ভাটপাড়া, গারুলিয়া, কামারহাটিতে। তাই এই সমস্ত পৌর এলাকায় যাতে এর প্রভাব না পড়ে তার জন্য সচেষ্ট হতে দেখা গেলো শাসক দলকে। বিজেপির ডাকা ১২ ঘন্টার বাংলা বনধ ব্যর্থ করতে পথে নামে তৃণমূল। জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম এর নেতৃত্বে জগদ্দল এলাকায় মিছিল করে বনধের বিরোধিতা করা হয়। দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বলেন, আপনাদের সঙ্গে তৃণমূল সরকার আর প্রশাসন আছে তাই নিশ্চিন্তে দোকান পাঠ খোলা রাখুন।
তবে বেলা বারার সাথে সাথে বিজেপি কর্মীদের অবরোধের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শ্যামনগর।

পৌরসভা নির্বাচনের নামে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের লাগামছাড়া সন্ত্রাস, ছাপ্পা ভোট, ভোট লুঠ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা সহ নির্বাচনকে প্রহসনের পরিণত করার অভিযোগে গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে শ্যামনগরে ২৩নং রেলগেটে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা রেল অবরোধ করে। প্রায় আধঘণ্টা এই অবরোধ চলার পর স্থানীয় তৃণমূল নেতা কর্মীরা জোর করে অবরোধ তুলে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় ভাটপাড়া, জগদ্দল থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশের সামনেই চলে ধস্তাধস্তি। এরপর পুলিশ অবরোধ কারীদের হটিয়ে দেয়। তবে বিজেপির এই রেল অবরোধের ফলে বেশ কিছুক্ষন বন্ধ থাকে রেল চলাচল। ফলে সমস্যায় পড়তে হয় নিত্য যাত্রীদের।

এই দিনের ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপির ডাকা বনধের প্রভাব সম্পর্কে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং বলেন, “পাকিস্তানের এজেন্ট ফিরহাদ হাকিম রাজনৈতিকভাবে বনধের মোকাবিলা করার কথা ঘোষণা করেছিলেন, তার মানে তৃণমূলের কাছে রাজনৈতিক মোকাবিলা মানে পিটিয়ে অবরোধ তুলে দেওয়া আর পুলিশ মজা দেখছে। ভেজিটেরিযান আন্দোলন করে হবে না তৃণমূলের বিরুদ্ধে জঙ্গি আন্দোলন করতে হবে। না হলে আমাদের কর্মীরা মার খাবে বারবার।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *