আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১১ নভেম্বর: তৃণমূল- বিজেপি সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ালো ক্যানিংয়ে। ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচ জন। জমি বিবাদের জেরে ঘটনার সূত্রপাত। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনাও হয়। আপাতত বিষয়টি সাময়িক মিটলেও শনিবার সকালে ক্যানিংয়ের ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ বুদোখালি গ্রামে কালিপুজো করাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। দু’পক্ষের অন্তত দশজন গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় গিয়ে পরস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উভয় পক্ষের মোট পাঁচজনকে শনিবার সন্ধে পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দক্ষিণ বুদোখালি গ্রামে দুটি কালিপুজো হয় দীর্ঘদিন ধরে। একটি কালিপুজো স্থানীয় তৃণমূল নেতা ইন্দ্রজিৎ সর্দারের অনুগামী আশুতোষ সর্দাররা করেন। অন্যদিকে আরেকটি কালিপুজো স্থানীয় বিজেপি কর্মী পালান সর্দার ও তাঁর অনুগামীরা করেন। বিজেপির অভিযোগ, শুক্রবার থেকেই তৃণমূল তাদের কালিপুজো বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবারও কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে। শনিবার সকালে বিজেপি কর্মীরা তাদের পুজো উপলক্ষ্যে এলাকায় মাইক বাঁধতে গেলে ইন্দ্রজিৎয়ের লোকজন আচমকা হামলা চালায়। লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। দু’পক্ষের মধ্যে বোমাবাজি ও গুলির লড়াই চলে। ঘটনায় দু’পক্ষের বেশ কয়েজকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়েই ক্যানিং থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী আইসি ক্যানিং সৌগত ঘোষের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল উদ্ধার করে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ইন্দ্রজিৎ বলেন, “জমি নিয়ে একটা অশান্তি চলছিল এলাকায়। সেই ঘটনার জেরেই এদিন আচমকা রাস্তা দিয়ে তৃণমূল কর্মীরা যাওয়ার সময় তাঁদের উপর বিজেপির লোকেরা হামলা চালায়। পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করতে।”
যদিও তৃণমূলের এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি নেতা প্রশান্ত বায়েন বলেন, “আমাদের কর্মীরা কালিপুজো করবে সেটা তৃণমূল করতে দেবে না। তা নিয়েই শুক্রবার রাত থেকে ঝামেলা করছে। আমাদের কর্মীদের মেরেছে। আজ সকালেও আচমকাই হামলা চালায় আমাদের কর্মীদের উপর। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।”
এলাকার সাধারণ মানুষ গুলি ও বোমা চলার ঘটনার কথা জানালেও এ কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ। এসডিপিও ক্যানিং দিবাকর দাস বলেন, “কালিপুজো নিয়ে একটা ঝামেলা হয়েছে ইন্দ্র গোষ্ঠী ও পালান গোষ্ঠীর মধ্যে। পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কি কারণে ঘটনা ঘটল সেটা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এ বিষয়ে আরও তদন্ত করা হবে।”

