স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৬ জুলাই: খেলতে গিয়ে বোমা ফেটে গুরুতর আহত এক শিশু কন্যা। এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার থানার সুরুন ২ নম্বর গ্রামপঞ্চায়েতের ইন্দ্রান গ্রামে। আহত শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে একে অপরের উপর দায় চাপাচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপি। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ইটাহার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কে বা কারা বোমা রেখেছিল তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ইটাহার থানার সুরুন ২ নম্বর গ্রামপঞ্চায়েতের ইন্দ্রান গ্রামের বাসিন্দা বিজেপি কর্মী কল্যাণ দাসের বাড়ির সামনে বোমা রাখা ছিল। দুপুর বেলা গ্রামেরই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সেখানে খেলা করছিল। খেলতে খেলতে আচমকাই সেখানে রাখা বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে গ্রামের মাঠে কাজ করতে থাকা বাসিন্দারা ছুটে আসেন। বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয় পূর্ণিমা সাহা নামে একটি ছোট্ট মেয়ে। গ্রামবাসীরা বলেন, তাঁরা কিছুই জানেন না কিভাবে এখানে বোমা এল। কে বা কারা বোমা রেখেছে তা জানাতে পারেনি কেউই। স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দারাই গুরুতর জখম পূর্ণিমাকে রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে ইন্দ্রান গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ শুরু করেছে তৃণমূল ও বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেসের রায়গঞ্জ বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর অরিন্দম সরকার অভিযোগ করে বলেন, বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি বাড়িতে বাড়িতে বোমা মজুত করে রেখেছিল। শিশুরা সেখানে খেলতে গিয়েই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিজেপি পরিচালিত সুরুন গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যরা সেখানে সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে।
বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ করে বিজেপির জেলা সভাপতি বাসুদেব সরকার বলেন, কল্যাণ দাস নামে এক বিজেপি কর্মীর বাড়ির সামনে তৃণমূলের লোকজন বোমা রেখে গিয়েছিল। সারা রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাস চালাচ্ছে, আর তাদের দলের মুখ্যমন্ত্রী সেই ঘটনাগুলোকে ছোট ঘটনা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। দিকে দিকে বিজেপি কর্মী ও কার্যকর্তাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটিয়ে চলছে তৃণমূল।
স্থানীয় বাসিন্দারা চাইছেন যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করুক।

