আমাদের ভারত, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া ১৭ মে: আগামী কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে স্বাগত জানানোর জন্য বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলে সাজো সাজো রব।
অপরদিকে শালতোড়ায় কাজ হারানো তিরিশ হাজার পাথর শিল্প শ্রমিক বেজায় ক্ষুব্ধ। অভিষেকের সভায় তারা আসবেন শুনে তড়িঘড়ি তাদের সঙ্গে অভিষেকের আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়। এদিনই দুপুর আড়াইটে নাগাদ উত্তর বাঁকুড়ার শিল্পাঞ্চলের বড়জোড়ায় প্রবেশ করছেন অভিষেক। দলীয় নেতৃত্ব তাকে আসুন” সম্ভাষনে অভ্যর্থনা জানাবেন বলে জানিয়েছেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা বিধায়ক অলক মুখার্জি। এখানে তিনি একটি রোড শো করে বিকেল ৩ টেয় বড়জোড়া- দুর্লভপুর শিল্প করিডোর ধরে প্রবেশ করবেন মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের গঙ্গাজলঘাঁটি থানার দুর্লভপুরে। এখানেও তার রোড শো করার সুচি রয়েছে। তারপর তার কনভয় ছুটবে দামোদরের কিনারে খনি এলাকার মেজিয়ার উদ্দেশ্যে। এখানে রোড শো করে তিনি যাবেন শালতোড়া। এখানে তিনি রোড শো শেষে পথ সভা করবেন।
তার আগমনে তৃণমূল নেতা কর্মীদের উৎফুল্ল করে তুললেও শালতোড়ার প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক পরিবারে হতাশার করুন ছবি ফুটে উঠেছে। অভিষেকের পথসভায় যোগ দেওয়ার জন্য এখানের শ্রমিকদের কাছে গিয়েছিলেন দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র ও ব্লক সভাপতি সন্তোষ মন্ডল। শ্রমিক পরিবারের কর্তারা সভায় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতেই প্রমাদ গোনেন জেলা নেতৃত্ব।
কেন তারা অভিষেকের সভায় যেতে চান না? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বীরভূমের পাঁচামীর পরই বিখ্যাত হল শালতোড়ার পাথর শিল্প। ২০২০ লকডাউনের পর গত ৩ বছর ধরে এখানের ২০০-র বেশি ক্রাশার বন্ধ। পাঁচামীর ক্রাশারগুলি লকডাউনের পর চালু হলেও শালতোড়ার ক্রাশার শিল্প খোলার অনুমতি পায়নি এখানের ক্রাশার মালিকরা। ফলে ক্রাশার শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। অনেকে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। অনেক পরিবারে শিক্ষার পাঠ উঠে গেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশির ভাগ ক্রাশার মালিকের বৈধতা না থাকায় ক্রাশার খোলার অনুমোদন দেওয়া যায়নি।
অন্যদিকে শ্রমিকদের অভিযোগ, শালতোড়া বিধানসভায় ২০২১ সালে তৃণমূল হেরে যাওয়াতেই তৃণমূল সরকার বদলা নিতেই ক্রাশার খোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এদিন দলীয় নেতাদের কাছে পেয়ে শ্রমিকরা তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়ে সভায় যোগ দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপর কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ নিয়ে নেতারা বৈঠকে বসেন। ক্ষোভের আঁচ সামাল দিতে অভিষেক কাজ হারানো শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, তারপরই বুধবার দুপুরে তড়িঘড়ি শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠক করেন জেলা সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র। ঠিক হয় ৩০ জন শ্রমিক অভিষেকের সঙ্গে বসে তাদের অভাব অভিযোগ জানাবেন।
যে ৩০ জন শ্রমিকের তালিকা করা হয়েছে তাদের মধ্যে ভীম বাউরি, লালু বাউরিরা বলেন, উনি সব পারবেন। ইচ্ছে করলে কাল থেকেই ক্রাশার চালু করার ঘোষণা করতে পারেন। আমরা আমাদের কষ্ট ও যন্ত্রণার কথা শোনাবো। তারা এও জানান, সমস্ত শ্রমিক পরিবার ওনার পথসভাতেও উপস্থিত থাকবেন।

