দূরত্ব বিধি শিকেয়, ঈদ উপলক্ষ্যে দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ করল তৃণমূল প্রভাবিত মানবিক স্টল

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১১ মে: দূরত্ববিধি শিকেয় তুলে তিন শতাধিক জমায়েত করে ঈদ উপলক্ষ্যে বস্ত্রদান করা হল রামপুরহাটে। পুলিশের সামনেই তৃণমূল প্রভাবিত মমতাময় মানবিক স্টলের এই বস্ত্রদান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে রামপুরহাট শহরে।

আর্ত মানুষদের সেবায় বছর তিনেক আগে রামপুরহাট শহরে গড়ে ওঠে মমতাময় মানবিক স্টল। যার কর্ণধার তৃণমূলের রামপুরহাট শহর সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রেকিব। রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড়ে এই স্টল থেকে সারা বছর দুঃস্থ মানুষদের পুরনো বস্ত্র বিতরণ করা হয়ে থাকে। তবে দুর্গা পুজো এবং ঈদের আগে নতুন বস্ত্র বিতরণ করা হয় দুঃস্থদের মধ্যে। করোনা অতিমারির কারণে রাজ্য সরকার সমস্ত রকম জমায়েতের উপর নির্দেশিকা জারি করেছে। সামজিক অনুষ্ঠান হোক কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কোনও ক্ষেত্রেই পঞ্চাশ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। সেই মর্মে মানুষকে সচেতন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচমাথা মোড়ে দিনরাত মাইকে প্রচার করা হচ্ছে। সেসবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানেই খোদ মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে রাস্তার উপর টেবিল চেয়ার লাগিয়ে বস্ত্র বিতরণের অনুষ্ঠান করল ওই স্টল। পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে ওই সময় রাস্তা দিয়ে বাস, লরি যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান, তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মি, দলের রামপুরহাট শহর সভাপতি সুশান্ত মুখোপাধ্যায়, দলের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেন, ব্যবসায়ী আনন্দ আগরওয়াল সহ এক ঝাঁক তৃণমূল নেতা, কর্মী। অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি ছিলেন না।

আব্দুর রেকিব বলেন, “বছর তিনেক ধরে আমরা মানবিক কাজ করে চলেছি। এদিন ৩০০ মহিলাকে শাড়ি এবং ৫০ জন পুরুষের হাতে লুঙ্গি তুলে দেওয়া হয়েছে। মূলত ঈদ উপলক্ষ্যে দুঃস্থদের মুখে হাসি ফোটাতেই এই আয়োজন”। দুরত্ববিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আগের দিন নিয়ম মেনে দূরত্ববিধি মেনে সাদা দাগ কেটে দিয়েছিলাম। আমাদের কর্মীরা মানুষকে সেই দাগে দাঁড় করিয়েছিল। কিন্তু কিছু মানুষ আগে নেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি করায় কিছুটা গা ঘেঁষাঘেঁষি হয়েছিল”। এই জমায়েত দেখে পথ চলতি মানুষের টিপ্পনী, “করোনা বোধ হয় এখন ঘরে ঢুকে রয়েছে। আর যত বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে। আর এই জমায়েত দাঁড়িয়ে দেখছে পুলিশ”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *