আমাদের ভারত, বর্ধমান, ২৩ আগস্ট :
এক তৃণমূল কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠলো বর্ধমান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খালাসি পাড়া এলাকা। নিহত তৃণমূল কর্মীর নাম অশোক মাঝি(৩৮)। ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বর্ধমানের খালাসিপাড়া এলাকা। প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার রাতে রাস্তা অবরোধ করে তৃণমূল কংগ্রেসের একটা গোষ্ঠী। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ বাইকে চেপে বর্ধমান পুরসভা থেকে ফিরছিলেন ৬ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মহম্মদ সেলিম। সেই সময় তাকে কে বা কারা লাঠি রড নিয়ে হামলা চালায়। তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করা হয়। সেই সময় তাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে যান তৃণমূল কর্মী অশোক মাঝি ও তার স্ত্রী চন্দনা মাঝি। তাদের মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতা শিবশংকর ঘোষের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। অশোক মাঝিকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হলে এদিন রাতে অশোক মাঝির মৃত্যু হয়। এই খবর জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে রাস্তা অবরোধ করে।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিমের অভিযোগ, এদিন বিকেল নাগাদ তিনি যখন পুরসভা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন সেই সময় অপর তৃণমূল নেতা শিবশংকর ঘোষের অনুগামীরা তার উপর হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে গেলে অশোক মাঝি ও তার স্ত্রীকে রাস্তায় ফেলে পেটানো হয় তাদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিন রাতে অশোক মাঝির মৃত্যু হয়। এরপরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বর্ধমান শহর। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান থানার পুলিশ।
তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতা শিবশংকর ঘোষ বলেন, এদিন আমি একটা অনুষ্ঠানে ছিলাম। ঠিক কী ঘটেছে আমার জানা নেই। আমার কোনও অনুগামী নেই।
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, এটা গোষ্ঠী কোন্দলের ঘটনা নয়। তবে যেসব দুষ্কৃতী এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। আমরা পুলিশকে বলবো দোষীদের যেন গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া হয়।

