বিজেপি প্রার্থীদের ঢুকতে না দিয়ে বোর্ড দখলের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে, মারধর ও অশান্তি গঙ্গাজলঘাঁটিতে

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১১ আগস্ট: পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাঁটি ১নং ব্লকের ভক্তাবাঁধে। বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকতে না দিয়ে পঞ্চায়েত বোর্ড দখল করলো তৃণমূল।

অপরদিকে গঙ্গাজলঘাঁটির ২নং ব্লকের লটিয়াবনী
পঞ্চায়েতে সংখ্যা গরিষ্ঠতা থাকলেও শাসক দলেরই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী ভোটাভুটিতে দলের অফিসিয়াল প্রার্থীকে হারিয়ে প্রধান, উপ-প্রধানের পদ দখল করল। এক্ষেত্রে সিপিআইএমের এক সদস্যের সমর্থন নিয়ে জয় পেয়েছে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী। দুটি ঘটনাই বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের। এ নিয়ে এলাকায় জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার গঙ্গাজলঘাঁটির বেশ কয়েকটি ব্লকের বোর্ড গঠনের দিন ধার্য করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই ভক্তাবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতটি। ১৪ আসনের এই পঞ্চায়েতে বিজেপি ও তৃণমূল সমান সংখ্যক আসন পাওয়ায় পঞ্চায়েতে টাই হয়। ফলে দুই দলের কাছেই বোর্ড গঠন অনিশ্চিত হয়ে যায়। ১১ জুলাই ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিজেপির আশঙ্কা ছিল তৃণমূল কোনও জয়ী সদস্যকে প্রলোভিত করে যেন ছিনিয়ে না নেয়। সুত্রের খবর, তৃণমূল গত একমাস ধরে সেই চেষ্টা করে গেলেও কোনও চাপ বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করেনি বিজেপির ৭ জয়ী সদস্য। তাই বোর্ড গঠনে মরিয়া তৃণমূল বোর্ড গঠনের দিন শেষ অস্ত্র প্রয়োগ করে বোর্ড গঠন করল ভক্তাবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের। এখানে সংরক্ষিত আসনে প্রধান হয়েছেন অনিত্য বাগদী এবং উপ প্রধান হয়েছেন হারাধন রায়।

এদিন বোর্ড গঠনের জন্য বিজেপির মন্ডল সভাপতি রাজীব তেওয়ারি তার জয়ী সদস্যদের নিয়ে পঞ্চায়েতে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, পঞ্চায়েত অফিসের কিছুটা আগেই তাদের আটকে দেয় সশস্ত্র একদল দুষ্কৃতী। বিজেপির অভিযোগ, তারা সকলেই তৃণমূল আশ্রিত। দু’পক্ষের বচসা হতে হতে মারপিট শুরু হয়ে যায়। ঘটনায় বিজেপির মন্ডল সভাপতি রাজীব তেওয়ারির মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য ভাস্কর লাহা। তারা পঞ্চায়েতে যাওয়ার বদলে দুষ্কৃতিদের তাড়া খেয়ে পালিয়ে যান। এই ঘটনা চাউর হতেই বিজেপির নেতা কর্মীরা গঙ্গাজলঘাঁটিতে জড়ো হয়ে বাঁকুড়া- রানীগঞ্জ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। দুপুর ২ টো থেকে ঘন্টা খানেক অবরোধ চলার পর গঙ্গাজলঘাঁটির আইসির হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে। এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান ভাস্কর লাহা। তিনি বলেন, বিডিও আশ্বাস দিয়েছিলেন নিরাপত্তা দিয়ে আমাদের সদস্যদের নিয়ে যাবেন। কিন্তু কোথাও আমরা পুলিশ বা প্রসাশনের সাহায্য পাইনি। তার দাবি, এই পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন অবৈধ, তাই পুনরায় বোর্ড গঠন করতে হবে। আর তা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

অন্যদিকে লটিয়াবনী গ্রাম পঞ্চায়েতে অফিসিয়াল ক্যান্ডিডেট হিসাবে প্রধান পদের জন্য মনোনীত করা হয় জয় মাজি ও উপ প্রধান পদে গৌরী মন্ডলকে। কিন্তু দলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী তাদের না মেনে ভোটে অংশ নেন। ১৭ আসনের এই পঞ্চায়েতে ১২টি আসন পায় তৃণমূল। বিজেপি ৩টি ও সিপিএম ২টি আসন পায়। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী প্রাক্তন প্রধান মাণিক মন্ডল প্রধান পদে ও লক্ষ্মী রায় উপ প্রধান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। বিজেপির ৩ ও সিপিএমের ১ জন ভোটাভুটিতে অংশ নেননি। সিপিআইএমের ১ জন সদস্যের সমর্থন নিয়ে মানিক মন্ডল ৭- ৬ ভোটে অফিসিয়াল প্রার্থী জয় মাজিকে হারিয়ে দেন। লক্ষ্মী রায় ৭- ৫ ভোটে উপ প্রধান পদে জয়ী হন।

এখানে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর নেতারা দাবি করেছেন, ব্লক সভাপতি নিমাই মাজি নিজেকেই সর্বেসর্বা ভাবেন। কাউকে পাত্তা দিতে চান না। এখনও দল না ভাবলে তার ফল আগামী দিনেও পাবে বলে দলের একাংশ মনে করছেন। তবে নিমাই মাজি বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা দলকেই হেনস্থা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে জেলা নেতৃত্ব ব্যবস্থা নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *