সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৭ এপ্রিল: মোমবাতি জ্বালিয়ে ছত্রিশগড়ের নিহত জওয়ানদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাল পুরুলিয়ার বিভিন্ন সমাজসেবী ও সাংস্কৃতিক সংস্থা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘টিম শুভেচ্ছা’র পক্ষ থেকে শহীদ স্মরণের অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুরুলিয়ার এম এস এ ময়দানের কাছে ভগৎ সিং এর স্ট্যাচুর সামনে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সেখানে নিহত জওয়ানদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর জন্য উপস্থিত হন বিভিন্ন সংস্থার শতাধিক সদস্য।
‘টিম শুভেচ্ছা’র সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সামিল হন “উত্তরায়ণ”- এক নতুন দিশা, ‘প্রতিজ্ঞা ফাউন্ডেশন’, ‘সেভ অ্যানিমেল’ সহ কয়েকটি সংস্থা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানবতাই আসল ধর্ম তা তুলে ধরে ‘হিংসা নয় শান্তি চাই’ এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে সংস্থাগুলির এই মিলিত প্রয়াস বলে জানান উদ্যোক্তারা। এক মিনিট নীরবতা পালন করে নিহত জওয়ানদের স্মরণ করেন সবাই।
শনিবার সকালে খবর পায় মধ্য ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের দিসপুরের এক জঙ্গলে ১৫০০ জন ভারতীয় সুরক্ষাবাহিনী(সি আর পি এফ) মাওবাদীদের ঘেরাও করেন। দুপুরের দিকে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা মাওবাদীরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর হামলা করতে শুরু করে। মাওবাদীরা বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র আর বোমা দিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালাতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ জন ভারতীয় সেনাবাহিনীর যোদ্ধা গুরুতর ভাবে আহত হন এবং ২২ জন বীর জওয়ান নিহত হন।

যারা আমাদের জীবনকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদেরকে আত্মবলীদান করেছেন তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়ে উত্তরায়ণ সংস্থার সম্পাদক পল্টু দেওঘরিয়া এই শ্রদ্ধার্ঘ অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্থার কর্ণধার রীয়া ঘোষকে ধন্যবাদ জানান শহীদ স্মরণ যৌথ ভাবে পালন করার জন্য। তিনি বলেন, “যেকোনো মৃত্যুই আমাদের কাছে বেদনাদায়ক। আর যাঁরা আমাদের নিরাপত্তার জন্য নিজেদের জীবন বিপন্ন করছেন প্রতিনিয়ত তাঁদের আত্মবলিদানে আমাদের ভীষণভাবে মর্মাহত করে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং যারা এরকম ঘটনা ঘটিয়েছেন তাদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

