আমাদের ভারত, ১০ এপ্রিল: বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় আদিবাসী মহিলাদের দন্ডি কাটানোর মতো মারাত্মক ঘটনার ভিডিও টুইটারে পোস্ট করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসার জন্য চার আদিবাসী মহিলাকে দণ্ডি কাটিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করার অভিযোগ জানিয়ে তিনি এবার চিঠি লিখলেন খোদ রাষ্ট্রপতিকে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার চিঠিতে এই ঘটনায় রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
দিন কয়েক আগে দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের কিছু মহিলা এবং তার পরিবার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেয়। তারপর আবার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসে তাদের মধ্যে চারজন মহিলা ফিরে আসেন। এই চারজন মহিলাকে প্রায়শ্চিত্ত করিয়ে প্রতিদান দেওয়া হয় এবং দণ্ডি কাটিয়ে দলে ফেরানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই চারজন মহিলাই আদিবাসী সম্প্রদায়। এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মধ্যযুগীয় বর্বর মানসিকতার সঙ্গে তুলনা করে সোচ্চার হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতিও আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি। আর সেই আদিবাসী সমাজের মহিলাদের ওপরেই এই রাজ্যের শাসক দল নির্যাতন চালালো। তাই দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতিকেই সুকান্ত মজুমদার চিঠি লিখে আদিবাসী সমাজের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিকার চাইলেন।
রাজ্য সভাপতি চিঠিতে লিখেছেন, “যন্ত্রণার সঙ্গে একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আপনার কাছে তুলে ধরছি। আমার লোকসভা কেন্দ্র বালুরঘাটের অন্তর্গত তপন বিধানসভা এলাকায় আদিবাসী পরিবারের প্রায় ২০০ জন বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এটা ভালো চোখে দেখেনি তৃণমূল নেতাদের একাংশ। তৃণমূলের গুন্ডারা ভয় দেখিয়ে জোর করে আবার তৃণমূলে যোগদান করিয়েছেন এদের। এটা যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হতো তাহলে আমাদের কিছু বলার ছিল না। কিন্তু অমানবিকভাবে জোর করে তাদের দণ্ডি কাটতে বাধ্য করা হয়েছে। অতীতের বিভিন্ন ঘটনা বলি এবং তৃণমূলের নেতাদের নানা মন্তব্য থেকে স্পষ্ট আদিবাসীদের প্রতি তৃণমূলের নেতাদের মানসিকতা ঠিক কেমন। তবে এটা আর বরদাস্ত করা যাবে না।” প্রসঙ্গত, এর আগে বিরূপ মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি। মন্ত্রীসভার এক সদস্যের এই মন্তব্যে ক্ষমাও চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই চিঠি তিনি শুধু রাষ্ট্রপতিকেই দিয়েছেন তা নয়, জাতীয় তপশিলি জনজাতী কমিশনের চেয়ারপার্সনকেও লিখেছেন। সুকান্ত মজুমদার তপনের ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সুকান্তর কথায় বাংলার শাসক দল এই কাণ্ড করে নিজেদের নিম্ন রুচির মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, বালুরঘাটের কোট মোড় থেকে পার্টি অফিস পর্যন্ত দণ্ডি কাটানো হয়েছিল তাদের। ঘটনার পর তা জানাজানি হতেই তৃণমূল কংগ্রেস তড়িঘড়ি প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে মহিলা তৃণমূল জেলা সভানেত্রী পদ থেকে সরিয়ে এক আদিবাসী মহিলাকে তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করে বিতর্কের ঝড়কে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ দাবি করে সুকান্ত এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার আর কোনো সুযোগ বাকি রাখলেন না তৃণমূলের কাছে, বরং এই ঘটনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে জাতীয় স্তরে নিয়ে গেলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এরফলে জাতীয় স্তরে তৃণমূলের ভাবমূর্তিতেও যথেষ্ট প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

