স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৭ মে: তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় এক পরিবহন সংস্থার মালিককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল দিলীপ মন্ডল নামে এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ওই পরিবহন সংস্থার মালিকের নাম সুরাব শেখ। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই তাকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ভাতজাংলা পঞ্চায়েতের কাছে তাঁকে মারধর করা হয়।
প্রসঙ্গত শুক্রবার দুপুরে কৃষ্ণনগরের ভাত জাংলা এলাকায় এফসিআই গুদাম থেকে লরিতে মাল নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ দিলীপ মন্ডল এলাকার তৃণমূল নেতা হওয়ার সুবাদে এফসিআই গুদামে আসা প্রতিটি লরির কাছ থেকে তোলা আদায় করে। তা দিতে আপত্তি করলে ওই তৃণমূল নেতা তাদের মারধর ও খুনের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।

থানায় এ বিষয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ থাকলেও এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত দীলিপ মন্ডলকে পুলিশ কিছু করতে পারেনি বলে অভিযোগ। গতকাল সুরাব শেখ নামে এক পরিবহন মালিকের কাছেও ওই তৃণমূল নেতা তোলার টাকা দাবি করে। তোলাবাজির টাকা দিতে অস্বীকার করায় দিলীপ ও তার লোকজন সুরাবের ওপর লোহার রড নিয়ে চড়াও হয়, তাকে বেধড়ক মারধর করে।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি এফসিআই গোডাউন এর কর্মীরা ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে দোষী ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পুলিশি হস্তক্ষেপে দাবি করে।
সুরাবের স্ত্রীর অভিযোগ, “দিলীপের লোকেরা কিছুদিন আগে আমার স্বামীর মাথায় পিস্তল ধরেছিল। তারপরও আমার স্বামী ওদের তোলা দিতে অস্বীকার করায় দশ দিন লরিতে মাল নিয়ে যেতে দেয়নি। এদিন আমার স্বামী এফসিআই গোডাউনের কাছে বসেছিলেন। সেই সময় দিলীপের লোকজন লোহার রড দিয়ে আমার স্বামীকে এলোপাথাড়ি মারধর করে। আমার স্বামীর কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। ওর কানের পর্দা ফেটে গেছে।”

ছবি: অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা দিলীপ মন্ডল।
তোলাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা দিলীপ মন্ডল বলেন, আমি সুরাব কে মারধর করিনি। আমি তৃণমূলের সক্রিয় সদস্য হওয়ায় আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, আমাকেই ফোনে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তথা কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, “যখন আমাদের ভাতজাংলা পঞ্চায়েতের উন্নয়নের জন্য অনুষ্ঠান হচ্ছে তখন এই পঞ্চায়েতকে ধ্বংস করার জন্য কিছু মানুষ এগিয়ে এসেছে। মানুষের টাকা লুটপাট করতে এগিয়ে আসছে। এই পঞ্চায়েতের পাশেই আছে এফসিআই গোডাউন। প্রত্যেকদিন মাল লোডিং আন লোডিং হচ্ছে। আর এই মাল লোডিং আনলোডিং এর ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল। নিজেদের মধ্যেকে কত পয়সা নেবে তাকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়। কিন্তু এতে সাধারণ মানুষের কি দোষ? তারা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবে? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন ও এফসিআই কর্মীরা ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আমি এ ব্যাপারে এসপিকে ফোন করে বললাম যত শীঘ্র সম্ভব এর মাথাকে অ্যারেস্ট করতে হবে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি এর মাথায় যে আছে তাকে গ্রেফতার করে বুঝিয়ে দেবো যে আমার এলাকায় আজকে উন্নয়নের বিরোধিতা করা মানে মানুষের বিরোধিতা করা।”

