সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৮ মে:
“বিবেকানন্দ বিদ্যা বিকাশ পরিষদ”-এর পরিচালনায় ও বাঁকুড়া নগর সংকুলের উদ্যোগে রবিবার বাঁকুড়া শহরের নির্মল ডাঙা বিষ্ণুপুরী সরস্বতী শিশু মন্দির প্রাঙ্গণে বই ছাড়া পাঠদানের এক প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়।এই প্রশিক্ষণ শালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত শিশু বাটিকা সংযোজক বিকাশ ভুঁইঞা, বাঁকুড়া জেলা সংযোজক কাজলবরণ সিংহ, মার্গ দর্শক অরুণ পাল ও বিদ্যা ভারতীর সোস্যাল মিডিয়া প্রমুখ সুখময় মাজী।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশুদের নিয়ে যে ইঁদুর দৌড় শুরু হয়েছে তাতে বাবা-মায়েরা শিশুর কথা ফোটার আগেই পিঠে বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে স্কুলে ভর্তি করে দিচ্ছেন। সেখানে লেখা তৈরি থেকে বই পড়ানো, ছড়া মুখস্থ করা সবই শেখানো হচ্ছে। এতে শিশুমনের বিকাশ হচ্ছে না কি শিশুকে মানসিকভাবে পীড়ন করা হচ্ছে সেদিকে কোনো ধ্যান ধারণা নেই অভিভাবকদের। একথা বলে বিকাশ ভুঁইঞা বলেন, ভারত সরকার শিশুদের কথা বিবেচনা করে ‘রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ নামে শিক্ষার অধিকার আইনে পরিণত করেছে। জাতীয় শিক্ষানীতিকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ৩ থেকে ৫ হল প্রাক-প্রাথমিক বা বাল বাটিকা। এই সময় শিশুকে পুস্তক ছাড়াই শিক্ষা দিতে হবে। তিনি বলেন, ভারতীয় বিদ্যাভারতী পরিচালিত শিশু মন্দির গুলিতে এই প্রদ্ধতিতে শিক্ষাদান করা হয়। সে কারণে শিশু মন্দিরগুলির আচার্য-আচার্যা বা শিক্ষক-শিক্ষিকারা শিশুদের কিভাবে শিক্ষা দেবেন তারই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হল এদিন।

তিনি জানান, মনুসংহিতায় যে ষোঢ়শ সংস্কারের কথা বলা হয়েছে ‘বিদ্যারম্ভ সংস্কার’ হল শিক্ষা শুরুর প্রথম ধাপের সংস্কার। ৪ বছর ৪ মাস ৪ দিন বয়স হলে বাড়িতে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘বিদ্যারম্ভ সংস্কার’ বা হাতে খড়ি করানো হয়। এই বিদ্যারম্ভ সংস্কারের আগে কোনোভাবেই লেখা অথবা বই পড়া উচিত নয়। তাতে শিশুমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তাই প্রাক-প্রাথমিকে বই ছাড়া শিক্ষাদান হল একেবারে বিজ্ঞানভিত্তিক। এর জন্য ১২ টি শৈক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে। সেগুলি হল “কলাশালা, কর্মশালা, ঘর, চিত্র পুস্তকালয়, চিড়িয়াখানা, বস্তু, সংগ্রহশালা, বাগান, রঙ্গমঞ্চ, বিজ্ঞান প্রয়োগশালা, ক্রীড়াঙ্গন ও প্রদর্শনী”। শিশু মন্দিরগুলিতে রুটিন মাফিক এই ১২ টি পদ্ধতিতে একেকদিন একেক বিষয়ে শিশুদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তাতে প্রকৃতিকে তারা নিজেরাই শিখবে। যেমন চিড়িয়াখানা বিষয়ের দিন কৃত্রিম চিড়িয়াখানা তৈরি করে তাতে কি কি জীবজন্তু থাকে তা তারা নিজেই জানবে। ফলে শিশুদের সমগ্র বিকাশের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজ হাতে শেখানোর জন্যই আমাদের এই কর্মশালা। এই কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষাপোকরণ কিভাবে কম খরচে বা বিনা খরচে জোগাড় করবেন তারও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় আচার্য আচার্যাদের।
সংগঠনের সোশ্যাল মিডিয়া প্রমুখ সুখময় মাজি বলেন, বাঁকুড়ার ৪ টি সংকুল বা বিভাগে ৩৪ টি শিশু মন্দির রয়েছে। এই সমস্ত শিশু মন্দিরের আচার্য আচার্যাদের এভাবেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এদিন বাঁকুড়া সংকুলের ১১ টি শিশু মন্দিরের ৩৯ জন আচার্য আচার্যা এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণ করেন।

