বিশ্বরূপ অধিকারী, আমাদের ভারত, বহরমপুর, ১৭ সেপ্টেম্বর: শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কান্দি বহরমপুর রাজ্য সড়কের ওপর বাবলা নদীর রণগ্রাম ব্রিজে। ব্রিটিশ আমলে তৈরি ব্রিজটি দুর্বল ব্রিজ হিসাবে চিহ্নিত হওয়ায় বছর খানেক আগেই ব্রিজের ওপর দিয়ে পন্যবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র ছোট গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাস চলাচলে ছাড়পত্র দিয়েছিল প্রশাসন।
তবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল ব্রিজ পরিদর্শনে আসার পর ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে সমস্ত ধরনের যান চলাচলে রাস টানার নির্দেশ দিয়েছে। জেলা পূর্ত দফতরের পক্ষ থেকে শুক্রবার সকাল থেকেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানাগিয়েছে। তবে পুজোর আগে ব্রিজের ওপর যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাবসায়ী সহ সাধারণ মানুষ চরম সমস্যায় পড়বে বলে মত এলাকার মানুষের।
মাঝের হাট ব্রিজের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রণগ্রাম ব্রিজ সংস্করণের কাজ করা হয় গত ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসে। বছর ঘুরতেই ২০১৯ সালে ফের রণগ্রাম ব্রিজের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এবছর ২৯ মে থেকে বন্ধ করা হয় যান চলাচল। শুধুমাত্র মটর বাইক, ছোট গাড়ি ও পায়ে হেঁটে পারাপার করতে পারা যায় এই ব্রীজ দিয়ে। কোনও বড় গাড়ি এবং বাস চলাচল করতে দেওয়া হয়নি তৎকালীন সময়ে। ফলে টানা দুই মাস ধরে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ এবং ভোগান্তির স্বীকার হন নিত্য যাত্রীরা। পরবর্তী কালে বাস চলাচল করতে দেওয়া হলেও ফের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কান্দি রণগ্রাম ব্রিজ দিয়ে বাস চলাচল। যার জেরে সমস্যায় পড়তে চলেছেন সাধারণ মানুষ ও নিত্য যাত্রীরা। পূর্ত দফতরের বিনতুঘলকের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার।

কান্দি সাঁইথিয়া সহ দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র পরিবহণ যোগাযোগ প্রধান ব্যাবস্থা এই রণগ্রাম ব্রিজ। সেতুর শেষ প্রান্তে প্রায় ১২ মিটার এলাকা জুড়ে ভেঙ্গে যায় সেতু। দ্বারকা নদীর উপর অবস্থিত ১৯৩৮ সালে স্বাধীনতা আগে ইংরেজ আমলে লোহার এই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রীজের অবস্থা বর্তমানে বেহাল হয়ে পড়েছে। ব্রিজটি লোহার হলেও ব্রিজের দুপাশে কংক্রিটের পিলার আছে যার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাড় কঙ্কাল বেড়িয়ে বসে গিয়েছিল ব্রিজের একটা অংশ। কান্দি রণগ্রাম ব্রিজের বেহাল অবস্থার জন্য ব্রিজ মেরামতির কারণে ২০১৮ সালে ও ২০১৯ সালে পুজোর আগে সেপ্টেম্বর মাসে একমাস বন্ধ থাকে রণগ্রাম ব্রিজ। ফলে যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়। ২০১৯ সালে মে মাসে পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা ব্রিজ পরিদর্শন পর ফের ত্রুটি খুঁজে পান ফলে নির্দেশিকা জারি করেন এবং যান চলাচল বন্ধ করা হয়। মটর বাইক ছোট গাড়ি বাদে কোনও ভারি যান বাহন চলবে না বলে নির্দেশিকা দেওয়া হয়।
রণগ্রাম ব্রিজ বন্ধ রেখে ৭নং রাজ্য সড়ক ধরে যান চলাচল করানো হচ্ছে বলে জানানো হয় মহকুমা প্রশাসন পক্ষ থেকে। ২০১৮সালে জানুয়ারি মাসে দৌলাতাবাদে বাস দুর্ঘটনা মৃত্যু হয় ৪৪ জনের তারপর ব্রিজ মেরামতির কথা থাকলেও তা হয়নি সেপ্টেম্বর মাসে মাঝেরহাট দুর্ঘটনা তিনজনের মৃত্যুর পর টনক নড়ে প্রশাসনের। মাঝেরহাট ব্রিজের মত দুর্ঘটনা এড়াতে ব্রিজ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু করে পুর্ত দফতর। তবে ফের সাত মাসের মাথায় ব্রিজের যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ার ফলে বন্ধ করা হল যান চলাচল। ব্রিজ বন্ধ ফলে সমস্যায় পড়েছেন কান্দি শহরের ব্যাবসায়ীরাও।

নিত্য যাত্রীরা জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে মাঝে মাঝেই বন্ধ থাকছে রণগ্রাম ব্রিজ, ফলে আমাদের অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। কান্দি থেকে বহরমপুর যেতে গেলে ব্রিজে নেমে পায়ে হেঁটে পারাপার করতে হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কোলে করে ফলে চিকিৎসা করতে যাওয়ার রোগীদের সমস্যা পড়তে হচ্ছে আমরা চাইব অতি শীঘ্রই ব্রিজ মেরামতি করে রাস্তা চালু করা হোক।
কান্দির বিধায়ক সফিউল আলম খান জানান, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে অবিলম্বে ব্রিজের যান্ত্রিক ত্রুটি রক্ষণাবেক্ষণ করে ব্রিজ জন সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হোক।
কান্দি প্রাক্তন বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ পরিবহন দফতরের চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার জানান, রণগ্রাম ব্রিজের দ্বিতীয় সেতুর জন্য গত ডিসেম্বরে ২৫কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন রাজ্য সরকার। তবে অতি শীঘ্রই একটি বেইলি ব্রিজ করে তার উপর দিয়ে যান চলাচল করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান অপূর্ব সরকার।


