সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১ জানুয়ারি: ইংরেজি বর্ষশেষ ও বর্ষবরণ উপলক্ষে বাঁকুড়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র শুশুনিয়া পাহাড়ে মানুষের ঢল নামে। এই সময় এখানে এলেই ভোর থেকে শুনতে পাবেন মাদলের তালে তালে আদিবাসী লোক সঙ্গীতের সুর। সোমবার শুশুনিয়া পাহাড় কোলে আসা পর্যটকদের একটা বড় অংশের গন্ত্যব্য ছিল সুর ও মাদলের ছন্দ অনুসরণ করে সেই দিকে ধাওয়া। অবশেষে হাজির পাহাড় কোলে একটি সুন্দর গ্রাম শিউলিবোনাতে।
গ্রামটি গঙ্গাজলঘাঁটি থানার অমরকানন শময়িতা মঠের দত্তক নেওয়া আদর্শ গ্রাম। শময়িতা মঠের উদ্যোগে এখানে এই দু’দিন ধরে বসেছে আদিবাসী মিলন মেলা খেরোয়াল তুকৌ। এবার ২৮তম বর্ষে পা রাখল এই মিলন মেলা। রবিবার বর্ষ বিদায়ের দিন আদিবাসী নৃত্য, লোকগান, বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার নববর্ষকে স্বাগত জানাতে হাজির হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আদিবাসী সাংস্কৃতিক দল।
শময়িতা মঠের সম্পাদক ঋষি ঋদ্ধা অনাহতা বলেন, শময়িতা মঠের প্রাণ পুরুষ প্রভুজী ২৮ বছর আগে ১ জানুয়ারি শিউলিবোনা গ্রামে আসেন। সেই থেকে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আদিবাসীদের নিয়ে এখানে হয় খেরোয়াল তুকৌ বা মিলন মেলা। আগে এই মেলা এক দিনের হত। এখন বেশ কয়েক বছর ধরে ২ দিনের হচ্ছে। তিনি বলেন, এই মিলন মেলার উদ্যেশ্য এক জেলার সঙ্গে অন্য জেলা এবং বিভিন্ন রাজ্যের আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানো। দক্ষিণবঙ্গের সংস্কৃতির সঙ্গে উত্তরবঙ্গ এবং এই রাজ্যের সঙ্গে অন্য রাজ্যের সংস্কৃতি, ভাষা, আচার আচরণ ইত্যাদির আদান প্রদান ঘটানো। এই মেলায় বিভিন্ন জেলা ও রাজ্য থেকে পুরুষ মহিলারা এসেছেন। তারা আদিবাসী সংস্কৃতির সারা, নাটুয়া, পাতা নাচ পরিবেশন করবেন। পাশাপাশি লোকনৃত্য হিসাবে গম্ভীরা, সম্বলপুরি রায়বেশে ইত্যাদি পরিবেশিত হল। মেলা উপলক্ষে শময়িতা মঠের নিজস্ব গোষ্ঠীদের তৈরি সামগ্রী নিয়ে নানান স্টল বসেছে। মঠের তৈরি খেজুর গুড়, মধু, আচার, রান্নার মশলাপাতি, হস্তশিল্প সামগ্রী, এমনকি রাসায়নিক বর্জিত শাক সবজির স্টলও দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি চলছে কৃষি প্রদর্শনী।
গভীর জঙ্গলের ভিতরে এই সৌন্দর্য সুষমা মন্ডিত গ্রামটি দত্তক নেওয়ার পর শময়িতা মঠের উদ্যোগে আধুনিক বিশ্বের সব রকম পরিষেবা চালু হয়েছে। শময়িতা মঠের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, সয়ম্বর গোষ্ঠী তৈরি করে হচ্ছে চাষ আবাদ, মুরগি খামার, হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ শিবির, গার্মেন্টস তৈরি ও বিপনন ব্যবস্থা, কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মাটি পরীক্ষাগার। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক, পোষ্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সহ নানাবিধ আধুনিকতার উপকরণ।
এদিন এই মেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ মধ্যাহ্ন ভোজনে অংশ নেন। স্থানীয় আদিবাসী মণিলাল টুডু বলেন, এখানে বর্তমান সভ্যতার সব সুবিধা আমরা ভোগ করছি শময়িতা মঠের জন্য।

