ওমিক্রনের ভ্রুকুটিতে ক্ষতির মুখে পুরুলিয়ার পর্যটন শিল্প, হোটেল ছাড়ছেন পর্যটকরা

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩ জানুয়ারি: করোনা বিধি লাগু হতেই হোটেল ছাড়ছেন পর্যটকরা। বুকিংও বাতিল করতে শুরু করলেন তাঁরা। অনেকে সফর অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় নিরাশ হয়ে বাড়ি মুখো হলেন। পুরুলিয়া জেলায় আজকের চিত্রটা এমনই ধরা পড়েছে। অনেক পর্যটক আজ সকালে পা রাখতেই চরম সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। কী করবেন কিছু বুঝে উঠতে পারেননি তাঁরা। সাঁতরাগাছি থেকে পরিবার পরিজনদের সঙ্গে আসা পূর্ণেন্দু বেরা হতাশা নিয়ে বললেন, “ছেলে মেয়েদের এই সময় ছুটি ছিল। পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রকৃতি ভ্রমণ কেন্দ্রে ঘুরে কয়েকদিন কাটাবার জন্য ছুটি নিয়ে এসেছিলাম। এই অবস্থায় কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।”

হাওড়া থেকে আসা পর্যটক অভিজিৎ বোস বলেন, “আজ হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়ে দেয় যে কোনও কেন্দ্রে পর্যটকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই সফর অসমাপ্ত রেখেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছি।”

রাজ্যের শপিং মল, বিউটি পার্লার, সিনেমা হল, রেস্টুরেন্ট, বার, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, জিম, স্পা, সুইমিং পুলে ও সমাবেশে নিয়ন্ত্রণ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে তা জানিয়ে দেওয়া হয়।

রীতিমতো রাতারাতি বুকিং বাতিল হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হোটেল মালিকরা। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে কার্যত ক্ষতির পড়ছেন পুরুলিয়ার বিভিন্ন ছোট গাড়ি, ক্ষুদ্র দোকানদার মালিকরা এবং অনুসারী শিল্প। সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেও এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কর্মসংস্থান কী হবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা। টানা দুটো মরসুম মন্দা কাটাবার পর ওমিক্রমের ভ্রুকুটি এবার ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়েছে পুরুলিয়া জেলার পর্যটন শিল্পকে। পুরুলিয়া শহরের জনপ্রিয় এক হোটেলের ম্যানেজার অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য বলেন, “কাল রাত থেকে আজ পর্যন্ত দু’শ বুকিং বাতিল হয়েছে। হোটেলে যাঁরা ছিলেন তাঁরাও সফর বাতিল করে ফিরে যাচ্ছেন।”

পুরুলিয়া ডিস্ট্রিক্ট হোটেল এন্ড লজ কিপার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মোহিত লাটা বলেন, “ভরা মরসুমে এই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বিধি মেনে হোটেলে ব্যবস্থা থাকলেও ঘুরতে না পাওয়ায় বাড়ি মুখো হচ্ছেন পর্যটকরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা সবাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *