মাদপুরের মনসা মন্দিরকে ঘিরে পর্যটনের ভাবনা মন্ত্রী মানস ভুঁইঞার, সাহায্যের আশ্বাস বাবুলের, খুশী স্থানীয়রা

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
৩ এপ্রিল: মাদপুরের মনসা মন্দিরকে ঘিরে শুরু হলো পর্যটনের ভাবনা। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর-২ ব্লকের মইশা-গোটগেড়িয়া এলাকায় মনসা মন্দির সংলগ্ন পুকুরের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের পর তাঁর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা বলেন, মাদপুর মনসা মন্দিরের পুজো ও মেলায় এই রাজ্য এবং ভিন রাজ্য থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৪ লক্ষ মানুষ আসেন। এবার পুজো ও মেলা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। মন্ত্রীর কথায় মনসা পুজো উপলক্ষে প্রায় ৬০ হাজার ছাগল বলি দেওয়া হয়। সারা বছরই হাজার হাজার মানুষ আসেন। দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষের জন্য এই পুকুর সংস্কার, পানীয় জল ও রাস্তাঘাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পর্যটন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়’র কাছে আবেদন করছি এই এলাকাটিকে পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত করার জন্য। জেলাশাসকের কাছে তিনি অনুরোধ করেন, মাদপুর মনসা মন্দির চত্বরকে পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি পরিকল্পনা করে রাজ্যে পাঠানোর জন্য।’

মনসা মন্দিরকে ঘিরে এই পর্যটনের ভাবনায় খুশি এলাকাবাসীরা। এলাকার বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, শুধু পুকুর সংস্কারের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এছাড়াও রাস্তাঘাট, সৌদর্যায়নের কাজ করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও সাজিয়ে তোলা হবে। আক্ষেপের সুরে বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, কর্ণগড় পর্যটন মানচিত্রে স্থান পেলেও, মাদপুর পায়নি। প্রত্যন্ত এলাকা বলে কর্ণগড়ের মতো নাম নেই মাদপুরের। অথচ এখানে লক্ষ লক্ষ ভক্তরা আসেন।’ মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও কথা দেন এই এলাকাকে সাজিয়ে তুলতে সাহায্য করেবেন।

জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরি বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন দপ্তরের কাজ আছে। আমরা একটি পরিকল্পনা করে প্রস্তাব আকারে পাঠাবো। যাতে এলাকাটির সার্বিক উন্ন্যন হয় তার চেষ্টা করা হবে। মনসা পুজো উপলক্ষে সোমবার থেকেই হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। মঙ্গলবার কয়েক লক্ষ মানষ আসবেন। রেল দপ্তরের পক্ষে খড়্গপুর-হাওড়া শাখার সমস্ত লোকাল ট্রেন ওখানে দাঁড় করানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর মহকুমার জকপুরে মনসা মন্দিরের অনুষ্ঠানে এসে বাবুল সুপ্রিয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, পুলিশ যথাযোগ্য তদন্ত করছে হাওড়ার রামনবমীর মিছিলের হামলার ঘটনায়। একটু সময় দিলে ঘটনায় জড়িত দোষীরা ধরা পড়বে পুলিশের জালে। তবে কোর্ট যদি আগেভাগেই দুদিনের মধ্যে সমস্ত নথি জমা করতে বলে তাহলে সেখানে দুদিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন নাও হতে পারে। উল্লেখ্য, অশান্তির ঘটনায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট। সেই প্রসঙ্গেই এবার মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজ্যের জল সম্পদ উন্নয়ন এবং পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইঞা, পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরী, পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *