সরকারি ধান কেনাতেও তোলাবাজি! তিতিবিরক্ত কৃষকরা, রাজ্যের কোথায় ঘটছে এমন ঘটনা?

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ জানুয়ারি: ধান কেনার নামে এবার তোলাবাজি করার অভিযোগ মিল মালিকদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তপন ব্লকের রামপুরে সরকারি ধান বিক্রয় কেন্দ্রে এমনই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তিতিবিরক্ত কৃষকরা। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল হইচই পরিস্থিতি তৈরি হয় সরকারি কর্মতীর্থে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ভাবে ধান কেনা নিয়ে মিল মালিকদের মধ্যে এক চরম অরাজকতা পরিস্থিতি চলছে এলাকায়। শুধুমাত্র “ধলতা”ই (অতিরিক্ত ধান) নয়, কৃষকদের কাছ থেকে এবারে নগদেও টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে। যা জেনেও কার্যত নিশ্চুপ রয়েছে প্রশাসন বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

জানাগেছে, তপন ব্লকের রামপুরে অবস্থিত সরকারি ওই কর্মতীর্থটিতে প্রায় একমাস ধরে চলছে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করার প্রক্রিয়া। বালুরঘাট ব্লকের বোল্লা এলাকার একটি মিল মালিক সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে কিনছেন সেই ধান। যার বিরুদ্ধেই উঠেছে জুলুমবাজি ও তোলাবাজি করার অভিযোগ। তাদের আরো অভিযোগ, প্রায় একমাসেরও বেশি সময় ধরে ধান কেনার নামে এলাকায় এক অরাজকতা পরিস্থিতি তৈরি করেছে ওই মিল মালিক।

কৃষকদের অভিযোগ, তাদের আনা ধানের প্রতি ১০ কুইন্টালে ৫০ কেজি করে ধলতা গুনছে মিল মালিকরা। শুধু তাই নয় ভুটভুটি ও ভ্যান থেকে ধান নামানোর জন্য প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করেও তুলছে ওই মিল মালিক। একইসাথে প্রতি বস্তার জন্য ২০০ গ্রাম করে ধানের ওজনও কাটছে ওই মিল মালিক। যে টাকা তোলা ও ধলতা নেবার কথা স্বীকারও করেছেন মিল মালিক কর্তৃপক্ষ। তবে এভাবে যে টাকা তোলা যায় না তা কার্যত মেনে নিয়েছেন মিল মালিক সংগঠনের সভাপতিও। কিন্তু দীর্ঘ একমাস ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে সরকারি কর্মতীর্থে কিভাবে চলছে মিল মালিকের এই তোলাবাজি? যার কোনো সদুত্তর মেলেনি।

ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক সাইবুদ্দিন সরকার ও জাহিদুল মোল্লারা বলেন, ধান কেনার নামে অরাজকতা চালাচ্ছে মিল মালিক। দশ কুইন্টালে ৫০ কেজি করে ধলতা নিচ্ছেন, সাথে ধান নামানো, মাপার জন্য একশো থেকে দুশো টাকা নিচ্ছে। এধরনের অরাজকতার আর অন্য কোথাও দেখা মিলছে না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে প্রশাসন নির্বিকার থাকায় তারা অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।

মিল মালিকের তরফে রানা মোল্লা বলেন, দশ কুইন্টাল ধানে ৫০ কেজি করে ধলতা নিচ্ছেন তারা। এছাড়া যে ১০০ ও ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে তা তাদের কর্মচারিরা নিচ্ছে তাদের কাজের পারিশ্রমিক হিসাবে। এই নিয়মেই এখানে ধান নেওয়া চলছে কৃষকদের কাছ থেকে।

মিল মালিক সংগঠনের সভাপতি অশোক জোয়ারদার বলেন, ভেজা ধানের ক্ষেত্রে ধলতা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও শুকনো ধানের ক্ষেত্রে তা নেওয়ার নিয়ম নেই। এছাড়া ধান নামানো ও মাপবার জন্য যদি কেউ ১০০ বা ২০০ টাকা তুলে থাকে তা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *