ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনে

আমাদের ভারত, ২০ জুলাই:
১.আজ বটুকেশ্বর দত্তর তিরোধান দিবস। তিনি ছিলেন উনিশ শতকের একজন বাঙালি ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী এবং ভারতীয় মুক্তি যোদ্ধা। ১৯২৯ সালের ৮ এপ্রিল ভগৎ সিংয়ের সাথে নয়া দিল্লির কেন্দ্রীয় সংসদ ভবনে বোমা ফেলার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। তারা পরিকল্পনা মত দুটি বোমা ফেলেন, যাতে কারো কোনও ক্ষতি না হয়। ফরাসি নৈরাজ্যবাদী বিপ্লবী বৈলেয়ন্টের মতোই ভগৎ সিংহের বক্তব্য ছিল,’বধিরকে শোনাতে উচ্চকণ্ঠ প্রয়োজন’। বটুকেশ্বর দত্ত ও তিনি ইস্তাহার ছড়িয়ে দেন নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে, স্লোগান দেন এবং শান্তভাবে গ্রেপ্তারবরণ করেন।

২.আজ সারদা দেবীর (২২ ডিসেম্বর ১৮৫৩– ২০ জুলাই ১৯২০) তিরোধান দিবস। তিনি ছিলেন উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি হিন্দু ধর্মগুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসের পত্নী ও সাধনাসঙ্গিনী এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সংঘ জননী। ভক্তগণ তাকে শ্রী শ্রী মা নামে অভিহিত করে থাকেন। রামকৃষ্ণ আন্দোলনের বিকাশ ও প্রসারে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

জয়রামবাটী গ্রামে সারদা দেবীর জন্ম। তার বিবাহপূর্ব নাম ছিল সারদামণি মুখোপাধ্যায়। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। তবে কৈশোরের উপান্তে উপনীত হওয়ার পূর্বে তিনি স্বামীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পাননি। তার জীবনীকারদের মতে, গার্হস্থ ও সন্ন্যাস জীবনের আদর্শ স্থাপন করার জন্য তারা উভয়ে অবিচ্ছিন্ন ব্রহ্মচর্যের অনুশীলন করে জীবনযাপন করতেন। শ্রীরামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর অবশিষ্ট জীবন সারদা দেবী অতিবাহিত করেন জয়রামবাটি ও কলকাতার উদ্বোধন ভবনে। তার সমগ্র জীবন ছিল স্বামী, ভ্রাতা ও ভ্রাতৃ-পরিবারবর্গ এবং তার আধ্যাত্মিক সন্তানদের প্রতি সেবা ও আত্মত্যাগে উৎসর্গিত। শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যগণ তাকে আপন জননীর আসনে বসাতেন। গুরুর প্রয়াণের পর উপদেশ ও উৎসাহলাভের আশায় ছুটে আসতেন তাঁর কাছে। সামান্য গ্রাম্য নারীর জীবন অতিবাহিত করলেও তিনি তার জীবৎকালে এবং পরবর্তীকালে ভক্তদের নিকট মহাশক্তির অবতার রূপে পূজিত হতেন।

৩. আজ গীতা দত্তর (২৩ নভেম্বর ১৯৩০- ২০ জুলাই ১৯৭২) তিরোধান দিবস। তিনি ছিলেন একজন বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী। তিনি মূলত ১৯৫০ এবং ১৯৬০এর দশকে হিন্দি ছবিতে নেপথ্য সঙ্গীত এবং বাংলা আধুনিক গান গাওয়ার জন্য বিখ্যাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *