হাওয়া গরম করতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কথা বলেছেন, মমতাকে পাল্টা দিলেন সুকান্ত

আমাদের ভারত,‌ ১০ নভেম্বর: ডিসেম্বরে ধামাকা হবে। সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হবে। পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক করতে গিয়ে নাম না করে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাল্টায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, আসলে হাওয়া গরম করতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার রানাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা চক্রান্ত করছে ওদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে হবে। নাম না করলেও স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে তিনি বিজেপি এবং আরএসএসের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা কালো কালো পোশাক পরে ঘুরে বেড়ায়। জেলায় জেলায় ওদের সাম্প্রদায়িক সংগঠন রয়েছে। গোটা দেশে ওদের প্ল্যানিং আছে। তা ভেঙে দিতে হবে। যদি ছোট্ট কোন ঘটনাও ঘটে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। এখানেও এনআইএ ঢুকেছে। গোটা দেশ জুড়ে ওদের প্ল্যানিং আছে। এটা ভাঙতে হবে।

এর পাল্টা জবাবে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অথচ কালো জামা পরে ঘোরাঘুরি করা কেউ যদি রাজ্যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি বাধাতে পারে সেই খবর পেয়েও কেন মুখ্যমন্ত্রী বসে রয়েছেন? এমন তথ্য প্রমাণ থাকলে পুলিশকে তাদের গ্রেফতার করা উচিত। রাজ্যবাসীর নিরাপত্তার জন্য সেটা করা উচিত। অথচ সেটা তারা করছেন না। বরং মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই সব বলে হাওয়া গরম করতে চাইছেন ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সৃষ্টি করতে চাইছেন। ”

এছাড়াও ভিআইপিদের গাড়িতে রাজ্যে বাইরে থেকে অস্ত্র ও টাকা আসছে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশকে নাকা চেকিং বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তার পাল্টায় সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “যে কোনো রকম চেকিং এর জন্য আমরা ১০০ শতাংশ প্রস্তুত। তবে বলব এই চেকিং যেন তৃণমূল কংগ্রেসের ভিআইপির গাড়িতেও ক্যামেরা সহ হয়।”

একই সঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, জেলায় জেলায় ঘুরে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক করছেন। কিন্তু সেই বৈঠকে সব জায়গায় এলাকার নির্বাচিত জন প্রতিনিধি থাকছেন না। বিশেষত যে এলাকায় বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধি রয়েছেন তাদের এই বৈঠকের কথা বলা হচ্ছে না। অথচ জনগণের টাকাতে এই বৈঠক করে বেড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেখানে জনগণের কথা তুলে ধরার জন্য জন প্রতিনিধিরাই থাকছেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *