আমাদের ভারত, হুগলি, ২২ আগস্ট: শনিবার রাতে চুঁচুড়ায় বস্তাবন্দি অবস্থায় জীবিত এক বৃদ্ধাকে উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য এল পুলিশের হাতে। মশার কামড়ের হাত থেকে বাঁচতে নিজেই বস্তার মধ্যে ঢুকেছিলেন ওই বৃদ্ধা। সেই অবস্থায় ঘটনার দিন রাতে চুঁচুড়ার প্রিয়নগর এলাকায় জিটি রোডের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল তাঁকে। ওই বৃদ্ধার নাম অন্ন কুমারী। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর বাড়ি উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগর এলাকায়।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে প্রিয়নগর জিটি রোডের পাশে দেখা গিয়েছিল একটি বস্তা। হঠাৎ করে নড়েচড়ে উঠেছিল বস্তাটি। সেটা দেখেই সন্দেহ হয় উপস্থিত জনতার। এগিয়ে এসে বস্তা টানতেই সাদা চুলের বৃদ্ধা বেড়িয়ে আসেন বস্তা থেকে। রাতে উপস্থিত জনতাদের মধ্যে অনেকেই তখন ভূতের ভয়ে ছুট লাগায়। তবে কয়েকজন সাহসী মানুষ দাঁড়িয়েও ছিলেন। যারা দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁদের মধ্যে থেকে কয়েকজন বলতে শুরু করেছিলেন, পরিবারের কেউ হয়তো বৃদ্ধাকে বস্তাবন্দি করে ফেলে গিয়েছে। খবর যায় পুলিশে। চুঁচুড়া থানা থেকে পুলিশ এসে ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন।
এরপরই বেড়িয়ে আসে আসল ঘটনা। সামান্য মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে ওই বৃদ্ধাকে এদিন হাসপাতালের অনেকেই চিনতে পারেন। ওই বৃদ্ধা হুগলির বিভিন্ন জায়গায় আপন মনে ঘুরে বেড়ান। ঘটনার দিন রাতে ওই বৃদ্ধা দূর ছাই ঘুম হল না বলে চুঁচুড়া হাসপাতাল থেকে নিজেই চলে যান। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, ওই বৃদ্ধার নাম অন্নু কুমারী। তিনি আরও জানিয়েছেন, অশোকনগরে তাঁর বাড়ি। ট্রেনে চড়ে তিনি চুঁচুড়ায় পৌঁছন বলেও বৃদ্ধা জানিয়েছেন পুলিশকে। কিন্তু পুলিশের ধারণা, বৃদ্ধা এসব বানিয়ে বলছেন। পুলিশের অনুমান, তিনি হয়ত বিহারের বাসিন্দা। তবে তিনি কিভাবে চুঁচুড়ায় এসে পৌঁছলেন তা এখন স্পষ্ট হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতাল থেকে ওই বৃদ্ধা আবার পালিয়ে গিয়েছেন। হাসপাতালে তাঁর খোঁজ মিলছে না। পুলিশ তাঁর খোঁজ শুরু করেছে।

