সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৮ অক্টোবর: হাতি সমস্যা সমাধানে এবং ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বাঁকুড়ার জঙ্গলে ট্র্যাক ক্যামেরা বসালো বনদপ্তর। এই ট্র্যাক ক্যামেরার সাহায্যে হাতিদের গতিবিধি নজর রাখা সম্ভব হবে, এর ফলে আগাম ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যাবে বলে বনদপ্তর মত প্রকাশ করলেও স্হানীয় অধিবাসীরা আশার আলো দেখছেন না।
বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের কাছে একটি জ্বলন্ত সমস্যা দলমার বুনো হাতি। হাতির বারমাস্যা হল উত্তর বন বিভাগের বড়জোড়া, বেলিয়াতোড়, গঙ্গাজলঘাঁটি রেঞ্জের বাসিন্দাদের ফসলের মাঠ মাড়িয়ে চাষাবাদ প্রায় তুলে দেওয়া, ঘরবাড়ি ভেঙ্গে গরিব মানুষকে পথে বসানো সর্বোপরি বছর বছর অসংখ্য মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া। রাজ্য বন মন্ত্রকও গত দেড় দু’ দশক ধরে হাতি সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতিতে জেলা ও রাজ্য প্রশাসন জঙ্গলের পাশ বরাবর পরিখা কাটা, বৈদ্যুতিক তারের বেড়া দেওয়া, ওয়াচ টাওয়ার, হুলা পার্টি মোতায়েন, ঐরাবত গাড়ির সাহায্যে টহল সহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেও হাতিদের বাগে আনতে পারেনি। এবার সেই জংলি হাতিদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে জেলা বন দফতর জঙ্গলের ভিতরে ট্র্যাক ক্যামেরা বসালো। পরীক্ষা মূলক ভাবে বড়জোড়া রেঞ্জ এলাকার পাবয়ার জঙ্গলের বিভিন্ন পয়েন্টে ক্যামেরাগুলি লাগানো হয়েছে বলে জানান উত্তর বাঁকুড়া বন বিভাগের এক কর্তা।
জানা গেছে, পাবয়ার জঙ্গলে ৫ টি ট্র্যাক ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। জঙ্গলের ভিতরে হাতিদের কার্যকলাপ, খাওয়া দাওয়া, বাসস্থান ও গতিবিধির উপর তীক্ষ্ম নজরদারি রাখতেই ক্যামেরাগুলি বসানো হয়েছে। দলমার হাতির দল এক সাথে ঢোকার পর ছোটো ছোটো দলে ভাগ হয়ে গিয়ে গ্রামে ঢুকে অতর্কিতে হামলা চালায়। হাতিদের আচার আচরণ ও ব্যবহারে কিভাবে বদল হয় বা আদৌ হয় কি না, হাতিরা কখন কোথায় কটি রয়েছে তাও জানা যাবে ক্যামেরার ফুটেজ দেখে। দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত মাস দুয়েক ধরে ৮০ টি হাতি বড়জোড়া- বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকায় দাপিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে গিয়েছে। এই মুহূর্তে বড়জোড়ার জঙ্গলে ১১ টি হাতি রয়েছে বলে বন দফতর সূত্রে জানাগেছে।
হাতি উপদ্রুত এলাকার সমস্যা সমাধানের জন্য গড়ে ওঠা সংগ্রামী গণমঞ্চের জেলা সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখার্জি বলেন, ক্যামেরা বসিয়ে হাতি সমস্যা রুখে দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের দাবি, হাতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে ময়ূরঝর্ণা প্রকল্পের রূপায়ণ করতে হবে। রাজ্য বন মন্ত্রকের কর্তারাও তা মেনেছেন। কিন্তু কাজের কাজ আগের সরকারও করেনি, আর এই সরকারের আমলেও তা গুরুত্ব পাচ্ছে না।

