আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ৯ আগস্ট: মাতঙ্গিনী হাজরাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসে শুভেন্দু অধিকারীকে শুনতে হল চোর চোট্টা স্লোগান। তমলুকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৮০তম বর্ষপূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ঘিরে উত্তেজনা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রের মুখোমুখি হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

আজ দুপুর বারোটা নাগাদ শুভেন্দু অধিকারী তমলুকের জেলখানা মোড় থেকে ব্যান্ড সহ দলীয় নেতা ও কর্মীদের নিয়ে ৫০০ মিটার পদযাত্রা করে কোর্ট চত্বর পর্যন্ত যেখানে মাতঙ্গিনী হাজরা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সেখানে থাকা মাতঙ্গিনী হাজরার স্মৃতি স্তম্ভ এবং মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে যান। শুভেন্দু অধিকারী আসার মিনিট কুড়ি আগে রাজ্যের সেচ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র কনভয় নিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে যান। সৌমেন মহাপাত্র ঘটনাস্থলে আসার আগেই বেশকিছু তৃণমূল নেতা ও কর্মী সমর্থক মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির কাছে যায়। সৌমেন মহাপাত্র শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে ফেরার সময় শুভেন্দু অধিকারীর পদযাত্রার সামনে পড়েন। মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র গাড়ির পাশ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর পথ যাত্রা যাওয়ার সময় ছোট রাস্তার কারণে আটকে যায় মন্ত্রীর কনভয়। এইসময় মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রের সঙ্গে থাকা কর্মী-সমর্থকরা শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও বন্দেমাতরম ধ্বনি দিতে থাকে। এই সময়ে দুই দলের স্লোগান ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

যদিও সৌমেন মহাপাত্র গাড়িতে ছিলেন, কিন্তু কিছু দলীয় কর্মী সমর্থক আশে পাশে ছিল। বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা মুখোমুখি হলে দু’পক্ষই স্লোগান দিতে থাকে তার ফলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে মন্ত্রীর কনভয় বের করে নিয়ে যাওয়া হয় তার গন্তব্যে। মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রের কনভয়ের পাশ দিয়েই শুভেন্দু অধিকারী মিছিল করে মাতঙ্গিনী হাজরার শহিদ বেদী ও মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে যান। এই ঘটনায় সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও সুষ্ঠুভাবেই দুই পক্ষই শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফিরে গিয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, শ্রদ্ধা জানানোর অধিকার সবারই আছে, সেরকম কিছুই হয়নি। আপনারা সাংবাদিকরা খবর তৈরীর জন্য এসব করছেন।


