আমাদের ভারত, ২৮ জুন: শুক্রবার ইডির তরফে ডাক পেয়েছেন তৃণমূল যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ। বুধবার সকালে এই খবর জানাজানি হতেই হৈচৈ পড়ে যায়। আর তারপর থেকেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রশ্ন উঠতে থাকে কোথায় চলে গেলেন যুব তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী সায়নী? জানা যায়, বেলেঘাটার একটি খুঁটি পুজোতে তার যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেখানেও তিনি যাননি। সেখানে একাধিক অভিনেত্রী উপস্থিত থাকলেও দেখা যায়নি সায়নীকে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেছেন, যখন সায়নী ইডির নেমন্তন্ন পেয়েছেন তখন একবার ঘুরে আসাই ভালো।
সায়নী ঘোষকে ইডির তলব করা এবং তার পর থেকে তার দেখা না মেলার প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে নরকবাস। বাংলায় এই কথাটা চালু আছে। সায়নী ঘোষ দু’বছর হল তৃণমূল কংগ্রেসের সংস্পর্শে এসেছেন। তার আগে তিনি বামপন্থী রূপে পরিচিত ছিলেন বিভিন্ন মাধ্যমে। কিন্তু সরাসরি তার রাজনীতির সাথে কোনও যোগাযোগ ছিল না। তিনি অভিনেত্রী হিসেবে অত্যন্ত ভালো অভিনেত্রী, উঁচু দরের অভিনেত্রী বলে আমরা মনে করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় অসৎ সঙ্গ হলে সিবিআই ইডি এসবই হবে।” সায়নীর উদ্দ্যেশ্যে তাঁর পরামর্শ, নেমন্তন্ন যখন পেয়েছেন একবার ঘুরে আসাই ভালো।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ। এবার সেই রেশ ধরেই তৃণমূল যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে তলব করেছে ই ডি। শুক্রবার তাকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় কুন্তল ঘোষের সম্পত্তি বেচাকেনায় নাম জড়িয়েছে সায়ণীর। সে কারণেই তাকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, ১০ বছর আগের আয়কর রিটার্নের হিসেবেও তাকে জমা দিতে বলা হয়েছে। তার সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথিও চেয়েছে ইডি। সমস্ত অ্যাকাউন্ট শুরু থেকে যাবতীয় লেনদেনের হিসাব চাওয়া হয়েছে। তার যাবতীয় সম্পত্তির খতিয়ান চাওয়া হয়েছে। তার কতগুলি ফ্ল্যাট রয়েছে, বাড়ি রয়েছে, জমি রয়েছে, তার খতিয়ান জানতে চাওয়া হয়েছে। স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির হিসেব-নিকাশ জানতে চাওয়া হয়েছে। শুক্রবার অর্থাৎ হাজিরার দিনেই এই সমস্ত তথ্য নিয়ে ইডির দপ্তরে যেতে বলা হয়েছে সায়নীকে। সম্পত্তির খতিয়ানে কোনও গরমিল রয়েছে কিনা তাই খতিয়ে দেখতে চাইছে ইডি।

