জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৭ অক্টোবর: সেবাই ধর্ম। সংস্থার চেয়ারম্যানের জন্মদিন। আর সেই উপলক্ষে কর্মীরা নানান সেবাকাজের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখল দিনটি। এমনই নজির বিহীন ঘটনার দৃষ্টান্ত রাখল দুর্গাপুরের কল্পতরু পাওয়ার ট্রন্সিমিশেন সংস্থা।
৭ অক্টোবর সংস্থার চেয়ারম্যান মুফতরাজ মনিশ মুনতের ৭৮ তম জন্মদিন। আর ওই জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে গত ১ অক্টোবর থেকে নানান সেবা কাজে ব্রতী হয়েছেন সংস্থার কর্মীরা। শুক্রবার দুর্গাপুরের ডিপিএল ইউনিটে তাদের রক্তদান শিবির, দুঃস্থদের কম্বল ও দুঃস্থ পড়ুয়াদের বই খাতা কলম বিতরণ করল সংস্থার কর্মীরা। এদিন ডিপিএলের প্রশাসনিক গেটের পাশে সংস্থার অফিসে নানান সেবাকাজের উদ্যোগ নেয়। সকাল থেকে অফিসে কর্মীরা চেয়ারম্যামের নামে কেক কাটে। তারপর রক্তদান শিবির শুরু করে। সহযোগিতায় দুর্গাপুর ব্লাড ডোনার্স কাউন্সিলের মাধ্যমে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল ব্লাড ব্যাঙ্ক এদিন রক্ত সংগ্রহ করে।
দুপুরের পর আশপাশের বস্তিবাসী দুঃস্থ প্রায় ৪০ জনের হাতে কম্বল ও ৫০ জন পড়ুয়ার হাতে খাতা, কলম, পেন্সিল তুলে দেওয়া হয়।

জানাগেছে, সংস্থাটি মূলত গুজরাটের। এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের কাজ করে। সারা দেশে ৫৭ টি প্রজেক্টের কাজ চলছে। দুর্গাপুর ডিপিএলে গত ৪ বছর ধরে কাজ চলছে। ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশে সংস্থার কাজ রয়েছে। এরাজ্যে দুর্গাপুর, রঘুনাথপুর, মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মানকরে প্রজেক্টে চলছে। সংস্থার সেফটি ইনচার্জ নবিন নায়ক জানান,
“সকালে ১০০ টি বৃক্ষরোপন করা হয়। তারপর কেক কেটে চেয়ারম্যানের জন্মদিনের শুভকামনা করা হয়। তারপর কর্মীরা রক্তদান শুরু করে। উৎসবের মরশুমে দুর্ঘটনা প্রচুর হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে রক্তের সঙ্কট দেখা দেয়। তাই এবছর সারা দেশে আমরা ৫ হাজার ইউনিট রক্ত বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে তুলে দেওয়ার সংকল্প নিয়েছি। দুর্গাপুর ইউনিট থেকে ৩২ ইউনিট রক্ত তুলে দেওয়া হয়।”
দুর্গাপুর ব্লাড ডোনার্স কাউন্সিলের পক্ষে সজল বোস জানান, “দুর্গাপুজোর সময় বেপরোয়া মোটর বাইক চালানোর দরুন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তাই এই সময় রক্তের সঙ্কট দেখা দেয়। রক্তসঙ্কট দূর করতে তৎপর রয়েছি। প্রায় দিনই শিবির হয়। এদিনের রক্তদান শিবির নজির বিহীন। সাধুবাদ ওই সংস্থাকে।”

