সুকান্ত মজুমদারকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি করার সিদ্ধান্ত ব্যতিক্রমী, উদাহরণ অন্য দলের কাছেও

শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত,২১ সেপ্টেম্বর: সুকান্ত মজুমদারকে রাজ্য সভাপতি করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই বিজেপির ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। এই ব্যাতিক্রমী ভাবনা শুধু যে বিজেপির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য সেটা নয়, অন্য রাজনৈতিক দলগুলি বছরের পর বছর যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখায়নি বা ইচ্ছা দেখায়নি সেটাই করে দেখিয়েছে বিজেপি বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

এর আগে উত্তরবঙ্গের কোনো নেতাকে রাজ্যের এত বড় দায়িত্ব নিয়ে আসতে দেখা যায়নি রাজ্যের কোনো রাজনৈতিক দলকে।‌ উত্তরবঙ্গ বরাবর ব্রাত্য থেকে গেছে। একাধিক নেতৃত্বের যোগ্যতা থাকলেও তা মর্যাদা পায়নি বলে অভিযোগ বরাবরের। সব রাজনৈতিক দলই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের দলের সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের দায়িত্ব বারবার কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার শহুরে পলিশড ( so called polished) নেতার হাতে তুলে দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন, তা সে কংগ্রেস হোক বা বামদল গুলি। আর তৃণমূলের দিকটা বিচার করতে গেলে তো প্রায় সবটাই কলকাতা কেন্দ্রীক। বাম, কংগ্রেস তবু জেলা দিকে নজর রেখেছে।

কিন্তু সম্ভবত এই প্রথম কোনও দল নিজের দলের এত বড় গুরুত্বপূর্ণ পদে উত্তরবঙ্গের কাউকে বসাতে দ্বিধা বা কুন্ঠাবোধ করলো না। সূত্রের খবর, বিজেপির দলের অভ্যন্তরেও দক্ষিণ বঙ্গের কাউকেই এই দায়িত্বে আনার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে তাতে কর্ণপাত করেননি তা তো স্পষ্ট হয়ে গেছে। একজন শিক্ষিত, মার্জিত ঝকঝকে, মিশুকে, বয়সে তরুণ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁরা। তথাগত রায়, সুকান্ত মজুমদারকে দায়িত্বে আনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটা সময়োপযোগী কাজ হয়েছে। দল পরিচালনার যোগ্যতার মাপকাঠিতে সুকান্ত মজুমদার উত্তরবঙ্গের বলে কিন্তু বাদ পড়ে যাননি।

আবার সুকান্ত মজুমদার দায়িত্ব পাওয়ার খবর পেয়েই নিজেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি শুধু মাত্র উত্তরবঙ্গের নেতা নন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের নেতা। তাঁর কাছে উত্তরবঙ্গ হোক বা জঙ্গলমহল দুই সমান গুরুত্বপূর্ণ। বড় দায়িত্ব পেয়েই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কাছে দলের কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দলের আদর্শ মেনে যারা দলের কাজ করে চলেছেন তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি বিজেপির কিছু নেতা উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য করার কথা উস্কে দিতে চেয়েছিলেন বঙ্গ রাজনীতিতে। কিন্তু সুকান্ত মজুমদারকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে এনে সেই বক্তব্য যে দলের নয় বরং তাদের একান্ত ব্যাক্তিগত তাও বোঝাতে সক্ষম হলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলে মনে করছেন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *