জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৭ সেপ্টম্বর: ফের শুট আউট। দলীয় কর্মীর বাড়ির অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন তৃণমূল প্রধানের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে আউশগ্রামের ভাতকুন্ডা জঙ্গলে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার রিভালবার ও কার্তুজ। অভিযোগের আঙ্গুল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিদের দিকে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। ঘটনায় স্নিফার ডগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, মৃতের নাম চঞ্চল বক্সী (৩৮), বুদবুদের দেবশালা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামল বক্সীর ছেলে। এলাকার যুব তৃণমূলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ঘটনায় জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূলের আউশগ্রাম -২ ব্লকের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল লালনের বাড়িতে পরিবারিক অনুষ্ঠান ছিল। সেখান থেকে বাবা শ্যামল বক্সীকে নিয়ে মোটরবাইকে করে ফিরছিলেন চঞ্চল বক্সী। মানকর- ভেদিয়া রোডের ভাতকুন্ডার জঙ্গলে একটি মোটরবাইক থেকে দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে গুলি করে বলে অভিযোগ। আশপাশের গ্রামের লোকজন তাদের উদ্ধার করে জামতাড়া ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চঞ্চল বক্সীকে মৃত বলে ঘোষণা করে। চঞ্চলবাবুর ডান হাতে ও ডান দিকের পেটে দুটি গুলি লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আউশগ্রাম ও বুদবুদ থানার পুলিশ। বুদবুদ থানা এলাকা থেকে পুলিশ রিভিলবার ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। গোটা এলাকাটি ঘিরে রাখে পুলিশ। স্নিফার ডগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন চঞ্চলের বাবা শ্যামলবাবু। ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

তৃণমূলের আউশগ্রাম-২ নং ব্লকের সভাপতি রামকৃষ্ণ ঘোষ জানান, “চঞ্চল বক্সী দক্ষ সংগঠক। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাকে খুন করেছে। বরাত জোরে বেঁচে গেছেন তাঁর বাবা।” যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বর্ধমান সদরের বিজেপির জেলা সহ সভাপতি রমন শর্মা বলেন, ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিজেপি এই ধরণের কাজ করে না। তৃণমূল নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এধরনের রক্তের খেলা শুরু করেছে নিজেরা। এই ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই। অন্যদিকে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

