পশ্চিমবঙ্গে মা মাটি মানুষের সরকার দিতে পারেনি মা, মাটি ও মানুষের সুরক্ষা: রাজনাথ সিং

কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর ১৬ মার্চ: পশ্চিমবাংলা ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট এবং ১০ বছরের তৃণমূলের শাসন দেখেছে। এই দীর্ঘ ৪৪ বছরে বাংলা কি পেয়েছে? এই প্রশ্ন করলেন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি মঙ্গলবার দাসপুরের চাইপাটে বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত বেরার সমর্থনে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মা মাটি মানুষের সরকার চলছে। এই সরকার না দিতে পেরেছে মায়ের সুরক্ষা, না দিতে পেরেছে মাটির সুরক্ষা, না দিতে পেরেছে মানুষের সুরক্ষা। পশ্চিমবাংলায় মা বোনেদের কোনও সুরক্ষা নেই, পশ্চিমবঙ্গে কোনও উন্নয়ন নেই। বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে।

রাজনাথ সিং আরও বলেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে জয়লাভ করলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ২০২২ সালের মধ্যে কেউ কাঁচা বাড়িতে বসবাস করবেন না, কিন্তু মমতা দিদির সরকার কেন্দ্রের এই প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করছে। মানুষকে ধোকা দিচ্ছে এই সরকার। মোদীজি কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের জন্য প্রচুর টাকা পাঠাচ্ছেন আর সেই টাকা নয়ছয় করছে পশ্চিমবঙ্গের সরকার।
তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসুর তুলনা করে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতবর্ষের সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, পশ্চিম বাংলার গৌরব এখন আর নেই। নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর আহত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর যেখানে সুরক্ষা নেই সেখানে সাধারণ মানুষের কি সুরক্ষা আছে? রাজনাথ সিং আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়ে পশ্চিমবাংলায় পরিবর্তনের ডাক দেন।

এই সভায় কেন্দ্রের নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, তৃণমূল বলছে আগামী নির্বাচনে খেলা হবে। কিন্তু কিসের খেলা হবে? রক্তের খেলা? তৃণমূল আমাদের ১৩০ জন কর্মীকে খুন করেছে, অজস্র নেতা এবং কর্মীদের নামে মিথ্যা কেস দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ তৃণমূলের ক্যাডারে পরিণত হয়েছে। আমরা বলছি খেলা হবে না। এরপরেও পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন হবে। সোনার বাংলা তৈরি হবে। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ মধ্যপ্রদেশে আজ প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। দাসপুরের হাজার হাজার যুবক ওইসব রাজ্যে কাজ করছেন। তিনি প্রশান্ত বেরাকে ভোট দিয়ে বিধায়ক করার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রশান্তবাবু শুধু বিধায়ক হবেন না, তিনি উন্নয়ন করবেন এবং প্রতিটি মানুষের সাথে থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *