সময় বদলালো মতুয়াদের উদ্দেশে মোদীর ভার্চুয়াল ভাষণের

আমাদের ভারত, ২৯ মার্চ: মতুয়া ধর্ম মহামেলায় ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গাইঘাটার ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়ির কামনা সাগরে মঙ্গলবার পুণ্যস্নানের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে মতুয়া ধর্ম মহামেলা। তবে প্রায় শেষ মুহূর্তে বদলালো মোদীর ভাষণের নির্ঘন্ট।

ওই মেলা এবং পুণ্যস্নান উপলক্ষ্যে আজ মোদী মতুয়াদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ভাষণ দেবেন। তার আগে সোমবার তিনি টুইট করেছেন, “মহান শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরজি সামাজিক ন্যায় ও জনকল্যাণে তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা তাঁর জন্মজয়ন্তীও উদযাপন করব।”

কথা ছিল বিকেল সাড়ে চারটেয় মতুয়াদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন মোদী। সেই অনুযায়ী ভার্চুয়াল সভা একসঙ্গে দেখার জন্য ঠাকুরনগরে প্রস্তুতি চলছিল। মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে ১৫ টি জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হয়েছে।

দুপুরের পর বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ ও সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাতিপতি শান্তনু ঠাকুর টুইটারে জানান, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২৯ মার্চ বিকেল সাড়ে চারটার পরিবর্তে রাত ৯ টায়, কামনা সাগরে পূণ্য স্নানের সময় মতুয়াদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।”

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়ির বড়মা বীণাপাণি ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আর ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর্বে বাংলাদেশের ওরাকান্দির ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। ওরাকান্দি থেকেই শ্রীশ্রীহরিচাঁদের সামাজিক এবং ধর্মীয় আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল।

বড়মার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ওরাকান্দি দর্শনের কথাও
টুইটে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মোদী। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এখনও কার্যকর না হওয়ায় মতুয়া নেতৃত্ব-সহ কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সেই ক্ষোভ প্রশমন করতেই মোদীর এই তৎপরতা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিকে, বনগাঁর প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা বালা ঠাকুর অবশ্য প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা দিতেই পারেন। তবে এত দিন সেটা কেন দেননি?“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *